টানা ৯ দিন ধরে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে কক্সবাজারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম এই পর্যটন গন্তব্যে পর্যটকের আনাগোনা কম থাকায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। জুলাইয়ের শুরুতে কিছুটা পর্যটকের দেখা মিললেও বৈরী আবহাওয়ায় সৈকত এলাকাসহ জেলার পর্যটনস্পটগুলো ছিল কার্যত ফাঁকা।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে বৃষ্টিপাত কমার পাশাপাশি বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও পর্যটক সমাগম আশানুরূপ বাড়েনি। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে সৈকতের লাবণী, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুরে অল্প সংখ্যক পর্যটকের দেখা মিলেছে।
ঢাকার মহাখালী থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান বলেন, কক্সবাজার এমনিতেই আমার প্রিয় জায়গা। বর্ষাকালে সৈকতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ করার মজাই আলাদা। ব্যস্ততা থেকে ক্ষণিকের জন্য দূরে থাকতে এখানে চলে এসেছি, দুই-তিন দিন থাকবো।
সৈকত লাগোয়া শুঁটকি ও বার্মিজ পণ্যের দোকানগুলোর অধিকাংশই ক্রেতার অভাবে ভুগছে। কলাতলীর শুঁটকি ব্যবসায়ী রাশেদ উল্লাহ জানান, বৃষ্টির কারণে ব্যবসা হয়নি, অনেক লোকসান হয়েছে। এখন আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে চলেছে, তবে জানি না কবে নাগাদ এই লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারব।
মাঝারি পুঁজির ব্যবসায়ীরা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সৈকত এলাকা নির্ভর ক্ষুদ্র ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা।

সৈকতের ফটোগ্রাফার আল আমিন বলেন, আগে ছবি তুলে যা পেতাম, এখন তার ৫০ শতাংশও পাই না। তার ওপর বৃষ্টি-বাদলের কারণে লোকজন আসেনি। আজ ১২ দিন পর ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়েছি কিছু টাকা আয়ের আশায়।
কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলে অসংখ্য পর্যটক তাদের বুকিং বাতিল করেছেন। টানা ১০ দিন এমন পরিস্থিতি থাকায় পর্যটন খাতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ দিন কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, আশা করছি দ্রুতই কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প প্রাণ ফিরে পাবে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জেলার ১০ উপজেলায় অন্তত দুই লাখ ৩৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজারে ৫ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/আরএআর
