বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার গাড়িতে করে সীমান্ত দিয়ে মাদক ঢুকছে: পাটওয়ারী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার গাড়িতে করে সীমান্ত দিয়ে মাদক ঢুকছে: পাটওয়ারী

বাংলাদেশে মুজিব সংগঠন, মুজিব সংবিধানের পাহারাদার হবেন না; জনগণের সংবিধানের পাহারাদার হন বলে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি মাদকের বিস্তার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।  

পাটওয়ারী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার গাড়িতে করে সীমান্ত দিয়ে মাদক ঢুকছে। সংসদে আপনি আইন পাস করছেন যে তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাজা করা হয়েছে। তাহলে যারা আজকে আপনার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গাড়িতে করে মাদক নিয়ে ইয়াবা নিয়ে ধরা খেলো তাদের বিষয়ে আপনার সুস্পষ্ট আমরা বক্তব্য চাই। 

তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা, স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের মাদকের সাথে জড়িত। যদি জড়িত না হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিকেট এবং গাড়ি ব্যবহার করে কিভাবে হলো, কক্সবাজার দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা ঢুকে সেই প্রশ্ন আমরা তাদের কাছে রেখে যেতে চাই।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় জয়পুরহাট জেলা শহরের শহীদ ডা: আবুল কাসেম ময়দানে দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রিয় অর্থমন্ত্রী, ইসলামী ব্যাংক দখল করতে আসছেন। অনেক ব্যাংক দখল করার শখ আপনাদের। যখন শখ- লোকজন নতুনভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবে তাহলে ব্যাংক গঠন করা দূরের কথা গায়ের যে কোর্ট আছে ওই কোর্ট নিয়ে আর বাইর হবেন না আপনারা বাংলাদেশে।

এনিসিপির এই নেতা বলেন, প্রিয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদ্-দ্বীন হসপিটাল দখল করতে গিয়েছে। বিভিন্ন হসপিটালের দিকে নজর পড়েছে। আদ্-দ্বীন হসপিটালের দখল করতে গিয়েছে। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাব, মাননীয় মন্ত্রীকে আহ্বান জানাব দখলের চিন্তা বাদ দেন, নিজের সামর্থ্য থেকে একটা হসপিটাল গড়েন। যদি নিজের মুরোদ না থাকে এটা হলো নব সভ্যতার যুগ। মানুষ শিক্ষিত মোবাইলে সবকিছু এখন দেখে। মানুষ সবকিছু এখন বুঝে দিনে-দুপুরে এইভাবে সামনে বাংলাদেশে যদি হসপিটাল আবার ডাকাতি করতে যান তাহলে ডাকাতদের সাথে আমাদের শক্ত লড়াই হবে।

এর আগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আপনাদের কাছে এসেছি একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করার জন্য, চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য, সন্ত্রাস বন্ধ করার জন্য, মাদক চোরাচালান বন্ধ করার জন্য এবং আপনাদের সমাজের নারীদেরকে যারা হেনস্থা করে তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য, ব্যবসায়ী ভাইদেরকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য, আমরা আপনাদের কাছে এসেছি নতুন করে একটি শিক্ষালয় স্থাপনের জন্য, বাংলাদেশের সুন্দর চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য, বাংলাদেশের নারীদের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের আলেমের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশে আপনারা যারা রয়েছেন সকল শ্রেণীর মানুষের পকেটে যাতে টাকা থাকে সেই ব্যবস্থা করার জন্য আমরা আবার আপনাদের সামনে নতুন করে উপস্থিত হয়েছি। এটা যদি হয় আমাদের অপরাধ, তাহলে এই অপরাধের জন্য আমরা হাজারবার ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে রাজি আছি।

তিনি বলেন, আপনারা কেউ এনসিপি করবেন না। কেউ জামাত, বিএনপি যে কোন দল করেন, আসুন আমরা জয়পুরহাটবাসী, বাংলাদেশের মানুষ। এই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ১৪’শ লোক হারিয়ে গিয়েছে। যে মানুষগুলো কবর থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে আমরা তাদের প্রতিনিধি হয়ে এখানে সমাজে আমরা নতুন একটি সমাজের জন্য লড়াই করব। যেই মানুষটা চোখ হারিয়েছেন, অন্তর দিয়ে আপনাকে আহ্বান করছে যে, আমি চোখ হারিয়েছি। তোমার চোখ আছে, তুমি নতুন বাংলাদেশের জন্য লড়াই করো। সেই স্বপ্ন নিয়ে আমরা আপনাদের কাছে এসেছি।

এনসিপির এই নেতা বলেন, আগামীর স্থানীয় নির্বাচনে সবাই লাঠিয়াল বাহিনীর মত লাঠি প্রস্তুত করবেন। তিতুমীর যেভাবে বাঁশের কেল্লা বানিয়েছিল আপনারা সেই ভাবে বাঁশ নিয়ে প্রস্তুত হন। যদি কেউ কেল্লা দখল করতে আসে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে, তাহলে প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই সব সন্ত্রাসীদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

পাটওয়ারী আরও বলেন, যদি কোন মাদকের চোরাচালান জয়পুরহাটে ঢোকে, আপনারা যেভাবে সীমান্ত পাহারা দিয়েছেন বিজিবির সাথে, সেভাবে প্রশাসনের ভাইদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব মাদকের স্তর ধ্বংস করে দেন। আপনারা ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ান। যদি কেউ তাদের কাছে চাঁদা চাইতে আসে, আপনারা সেই টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করুন। আমরা এই দাবি নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি।

এই পদযাত্রায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জয়পুরহাট জেলা এনসিপির সদস্য সচিব ফিরোজ আলমগীরসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

চম্পক কুমার/ডিএ