প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, বিশেষ দেশকে অর্থাৎ ভারতকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের চিকিৎসা খাত। তার এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সৎ সাহস দিয়ে এই কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা এই কথা তখনই মনে করবো এইটা শুধু বলার জন্য কথা না, যখন কথার সাথে কাজের মিল থাকবে।
সারজিস বলেন, আমরা এরকম দেখতে চাই বিশেষ দেশকে সুবিধা না দিয়ে, জয়পুরহাটসহ বাংলাদেশের ৬৪ জেলার হাসপাতালগুলোকে মানসম্মত হাসপাতাল করা হবে। হাসপাতালে রাজনৈতিক দলের নেতাদের নেতাগিরি, খাবারের টেন্ডারবাজি, ওষুধের টেন্ডারবাজি বন্ধ করা হবে। তাহলে বুঝব আপনি শুধু কথা বলেন না আপনার কথার সাথে কাজের মিল আছে। কিন্তু আমরা দেখি আপনার ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সদর হাসপাতাল থেকে শুরু করে উপজেলার হাসপাতাল সবখানে খাবারেরও টেন্ডারবাজি শুরু করে দিয়েছে। ওষুধেরও টেন্ডারবাজি শুরু করে দিয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ৮টায় জয়পুরহাট জেলা শহরের শহীদ ডা: আবুল কাসেম ময়দানে দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, আমার ভাইয়েরা যখন চিকিৎসা করাতে যায়, তারা সেখানে ঠিকমত ওষুধ পায় না, ঠিকমত খাবার পায় না। আমরা তখনই বুঝবো আপনার কথার সাথে কাজের মিল আছে, যখন আপনি প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী পরিষদের অন্যান্য সদস্য ৩৫০ জন এমপি বাংলাদেশে চিকিৎসা নিচ্ছে, তখন আমরা বিশ্বাস করবো আপনি এটা ধারণ করেন। যেদিন আপনি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা বিভাগে, জেলায়, ঢাকায়, ওই শিক্ষায়, ওই চিকিৎসায় মানসম্মত অবস্থা তৈরি করবেন সেদিন আমরা আপনাকে সমর্থন করবো। তার আগে পর্যন্ত আপনার কথাকে আমরা আমাদের জায়গা থেকে আস্থা রাখতে পারি না।
এর আগে সারজিস বলেন, যারা জুলাইয়ের যোদ্ধা ছিল তাদেরকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আরেকদিকে ছাত্রদল আরেকটা প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে উপস্থিত ছিলেন সালাউদ্দিন আহমেদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় বছর পড়াশোনা করেছি। ছয় দিনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ যায়নি। ছয় বছরে ছয় ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ যায়নি। আজকে যখন প্রোগ্রাম হয় যেখানে নাহিদ ইসলাম প্রোগ্রাম করছেন, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসিতে সালাউদ্দিন আহমেদ প্রোগ্রাম করছেন, সেখানে বিদ্যুতের কোনো সমস্যা নেই। এটা হচ্ছে বর্তমানে বিএনপি সরকারের বাংলাদেশ। সাভারে আমরা যখন এই পথসভা করছিলাম বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিয়ে আমাদের ওপরে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করা হয়েছিল।
উত্তরাঞ্চলের এই মুখ্য সংগঠক বলেন, ওই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের সময় যে শিক্ষকরা ছিল আওয়ামী লীগপন্থি, তাদেরকে বলা হতো নীল দল পন্থি শিক্ষক। বাংলাদেশের যত ক্ষমতার দালাল ছিল তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আমরা শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। কিন্তু যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপরে ক্ষমতার দালালি করা শুরু করে, ক্ষমতাসীন দলের পা চাটা শুরু করে, তাদের চেয়ে নির্লজ্জ এই দেশে আর কেউ হতে পারে না। শিক্ষিতরা যত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন তত শ্রদ্ধাশীল, আর যত ব্যক্তিত্বহীন তারা যত নিকৃষ্ট।
সারজিস আলম বলেন, আমাদের বর্তমানে বিএনপি পন্থি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শিক্ষক আছে তাদেরকে বলা হয় সাদা দলের শিক্ষক। তারা ছিল বিগত ১৬-১৭ বছরে সবচেয়ে জুলুমের শিকার। আজকে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারা হয়েছে ভিসি, প্রক্টর থেকে শুরু করে সব। তারা হয়েছে বিভিন্ন অনুষদের ডিন। এই জুলুম নির্যাতনের শিকার শিক্ষকরা যখন ক্ষমতায় আসার পরপরই সেই নাহিদ ইসলামের প্রোগ্রামে ঘন্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাখে। প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা কর্মচারীরা যখন বন্ধ করে রাখে, তখন মনে রাখতে হবে পূর্বে যারা ছিল, যারা এই শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপরে জুলুম করেছিল, বর্তমানে যারা আছে তারা তাদের চেয়ে কোন অংশে ভালো ছিল না। তারা শুধু সুযোগের অভাবে তাদের জায়গা দখল গুলো করেনি। এখন সুযোগ পেয়েছে এখন তারা তাদের আসল চরিত্রটা দেখাচ্ছে। এটা হচ্ছে সবচেয়ে লজ্জাজনক বাস্তবতা।
তিনি আরও বলেন, আমরা তারেক রহমানকে, সালাউদ্দিন আহমেদকে বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ওই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার যারা আছেন, আপনাদেরকে শুধু একটা কথা বলি- সরকার আজকে আছে কালকে নেই। ক্ষমতা আজকে আছে কালকে নেই। আপনি যদি ক্ষমতার দালালি করা শুরু করেন, আপনি যদি সরকারের পা চাটা শুরু করেন, তাহলে আওয়ামী লীগের পর অনেকে বেঁচে গেছে। আগামীতে যে নতুন করে আপনাদেরকে জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে, সেই প্রথম থেকে আগামীতে আপনি কোনোদিন মুখ দেখাতে পারবেন না। এই জন্য দয়া করে আপনাদেরকে আমাদেরকে ওইটুকু ব্যক্তিত্ব বজায় রাখতে হবে। ওইটুকু ইনসাফ ভিত্তিক হতে হবে। ওইটুকু ন্যায় সৎ সাহস থাকতে হবে, যেন আমাদেরকে ক্ষমতার দালালি করতে না হয়, ব্যক্তির পূজা না করতে হয়, দলের দাসত্ব করতে হয়।
পদযাত্রার এই কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় জয়পুরহাট জেলা এনসিপির আহ্বায়ক গোলাম কিবরিযা তাপসের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, জয়পুরহাট জেলা এনসিপির সদস্য সচিব ফিরোজ আলমগীরসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
চম্পক কুমার/ডিএ
