বিজ্ঞাপন

এক মাস ধরে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

এক মাস ধরে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রায় এক মাস ধরে শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন হাজারো লোড-আনলোড শ্রমিক এবং বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে বন্দরের রাজস্ব আয় নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়।

জানা গেছে, মেঘালয়ের ডালু-তুরা মহাসড়কসহ ডালু-মহেন্দ্রগঞ্জ-গারোবাঁধা-তুরা সড়কের বিভিন্নস্থানে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের কারণে রাস্তা ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর মাটি পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে পাথর, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক মাঝপথে আটকা পড়ে আছে। এর প্রভাব পড়েছে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে, যেখানে সব ধরনের পণ্য আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

নাকুগাঁও শুল্ক বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। ২০০২ সালে ১৯টি পণ্যের মধ্যে কয়লা ও পাথর ছাড়া সব পণ্যের আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে বন্দরটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় এবং ২০১৫ সালে স্থলবন্দর হিসেবে কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ২১টি পণ্য আমদানির অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে কেবল পাথরই আমদানি হচ্ছে।

আমদানি বন্ধ থাকায় বন্দরের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক পাথর ও কয়লা আসার কথা থাকলেও এখন বন্দর এলাকা প্রায় ফাঁকা। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক।

লোড-আনলোড শ্রমিক মাহাবুব মিয়া বলেন, ১১ বছর ধরে পাথর ভাঙার কাজ করে পরিবার চালাই। কিন্তু এক মাস ধরে কাজ নাই। জমানো টাকা শেষ, এখন কষ্টে দিন যাচ্ছে।

আরেক শ্রমিক আজহার আলী বলেন, এক মাস ধইরা কাম বন্ধ। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। অন্য কাজও জানি না। ধার করে চলতেছি।

ব্যবসায়ীরা জানান, দ্রুত ভারতের অংশের সড়ক সংস্কার না হলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। একইসঙ্গে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে।

নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় এক মাস ধরে পাথর না আসায় আমরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে। মাঝেমধ্যে ঢল হলেই ওপারের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে নতুন করে বৃষ্টি না হলে এক সপ্তাহের মধ্যে সড়ক সংস্কার শেষ হতে পারে বলে জানতে পেরেছি। তখন আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন পাথর আমদানি হয়েছে। এতে কাস্টমস বিভাগ রাজস্ব আদায় করেছে ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৯১ টাকা এবং স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আদায় করেছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৮ টাকা ট্যারিফ, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভারতের অংশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রায় এক মাস ধরে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে পারেনি। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে মঙ্গলবার সকালে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে ভুটানের একটি পাথরবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘদিন আমদানি বন্ধ থাকায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

নাইমুর রহমান/আরকে

বিজ্ঞাপন