নীলফামারীর জলঢাকা পৌর শহরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। শহরের প্রধান সড়কের দুই পাশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দিনের পর দিন আবর্জনা অপসারণ না করায় তা পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও পৌরবাসী, অন্যদিকে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র ফেলা ময়লা আবর্জনায় স্তূপ তৈরি হয়েছে। পৌরসভা ভবনের পাশে ভূমি কার্যালয়ের সামনে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ট্রাফিক মোড় ও ডালিয়া রোডের আল আকসা মডেল মাদরাসার সামনে গড়ে উঠেছে ময়লার বড় বড় স্তূপ। রাস্তার পাশে এভাবে ময়লা ফেলে রাখায় তীব্র দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ পথচারী ও পৌরবাসীকে।
আরও দেখা যায়, শহরজুড়ে ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন কিংবা স্থান নেই। বাসা বাড়ির আবর্জনা পলিথিনে ভরে গেটের সামনে রেখে দিচ্ছেন বাসিন্দারা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সেগুলো সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে ফেলছেন। ফলে শহরের বিভিন্নস্থানে বড় ময়লার ভাগাড় তৈরি হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করেন। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করতে তিন একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে অধিগ্রহণ করা জমিতে ময়লা ফেলার উপযোগী করার কাজ এখনও চলছে।

পৌর এলাকার বাসিন্দা রহিম উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুরো পৌর শহরজুড়ে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই, একটাও ডাস্টবিন চোখে পড়ে না। পৌর কর্তৃপক্ষ যদি ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট ব্যবস্থার করত, তাহলে আমরা যত্রতত্র ময়লা না ফেলে সেখানেই ফেলতাম।
আরেক বাসিন্দা রুমানা আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাসা বাড়ির সামনে ময়লার স্তূপ জমছে। সারাদিন ময়লা জমিয়ে রাখার পর পৌরসভার লোকজন এসে সেগুলো নিয়ে আবার কিছুটা দূরে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছে।
রবিউল ইসলাম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দাকে বলেন, শহরে নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার কোনো জায়গা নেই, তাই রাস্তার পাশেই মানুষ ময়লা ফেলে। আমরা এখানে ময়লা ফেলা নিষেধ ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছি, তবুও মানুষ এসে ময়লা ফেলছে। পৌর কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা ময়লা ফেলার স্থান তৈরি না করবে, ততক্ষণ আমাদের দূর্ভোগ শেষ হবে না।
জলঢাকা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী এস এম আলেকজান্ডার ঢাকা পোস্টকে বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য তিন একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই জায়গাটি ময়লা ফেলার উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা খুব দ্রুত আধুনিক উপায়ে সেখানে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি ঢাকা পোস্টকে বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে যেসব ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছিল, তার কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন অর্থবছরে আমরা আবারও ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এছাড়া যেসব জায়গায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা পড়ে আছে, সেগুলো দ্রুত পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পৌরবাসীকে সচেতন করতে মাইকিং করা হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিনগুলোতে রঙ করে দৃষ্টি আকর্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
শাহজাহান ইসলাম লেলিন/আরকে
