কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শহর রক্ষা বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে প্রায় ২৫ মিটার এলাকা ধসে পড়ায় বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে ভাঙন বিস্তৃত হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
গত রোববার (১২ জুলাই) শহরের কালীবাড়ি এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধে হঠাৎ ধস নামে। এতে বাঁধের সুরক্ষাব্যবস্থার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পাউবোর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে তারা জানান, গড়াই নদীর পানির উচ্চতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা পাপ্পু হোসেন বলেন, পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের নিচে গর্ত তৈরি হয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে বাড়িঘর ও বাজার হুমকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত এই বাঁধ সংস্কার প্রয়োজন।
পৌরসভার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, গড়াই নদীপাড়ে পৌরসভার ড্রেনের মুখের সামনে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে পুরো বাঁধই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, বছরখানেক আগেও এখানে ভাঙন হয়েছিল। তখন মেরামত করা হলেও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আবার নিচের মাটি সরে গিয়ে ধস নেমেছে। এখানে কয়েকশত ঘরবাড়ি, বাজার রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পানি শ্মশানঘাট এলাকার ড্রেন দিয়ে গড়াই নদীতে নামায় ওই অংশের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আগেই দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
খোকসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোছা. তাসনিম জাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নদীর পানির উচ্চতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের নিচ থেকে মাটি সরে এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা পরিমাপ সম্পন্ন করেছেন এবং দুই-এক দিনের মধ্যেই সংস্কারকাজ শুরু করবেন।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, খোকসা শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২৫ মিটার অংশ ধসে গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরিমাপ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, খোকসা শহরের ড্রেনেজের পানি এ অংশ দিয়েই নদীতে নিষ্কাশন হয়। ফলে নিচের মাটি সবসময় ভেজা থাকে। নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মাটি সরে গিয়ে এ ধসের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিউল আলম ইভান/এমএমবি
