২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল আসেনি এক কেন্দ্রের ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩৭ পরীক্ষার্থীর। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি প্রদান করে অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেনের কাছে জমা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্রটি উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়। সেই স্কুলে ২৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাতটি ওয়ার্ডের ১২টি স্কুলের পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু বৃত্তির ফলাফলে তাদের রোল নেই। কেন্দ্রের ১০৪৯৫২৭ থেকে ১০৪৯৭৬৪ এরমধ্যে একজনও বৃত্তি পায়নি।
মানববন্ধনে অভিভাবক ড. আজিবর রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আঘাত লাগার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বর্ণ বলেন, আমি অনেক ভালো পরীক্ষা দিয়েছি। খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে আমি বৃত্তি পাব বলে আশা করি। তাই উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।
কর্মসূচি থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফলাফলের সব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজন হলে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে দ্রুত সংশোধিত ফল প্রকাশ, কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ফলাফল প্রণয়ন ব্যবস্থা চালু, গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে শিক্ষক-অভিভাবকদের অবহিত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধিত ফল প্রকাশ।
উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, আমাদের কেন্দ্রে ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, একজন শিক্ষার্থীরও নাম তালিকায় নেই। বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে বৃত্তি পরীক্ষায় নিবন্ধিত ১৩ হাজার ১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩ জন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে বৃত্তি পেয়েছে ১ হাজার ৯০৯ জন। তবে একটি কেন্দ্রের ২৩৭ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ না হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্রটি উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাতটি ওয়ার্ডের ১২টি স্কুলের পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার অভিভাববৃন্দ এই ফলাফলে সন্তষ্ট হননি। তারা বৃত্তির ফলাফলে অসঙ্গতি মনে করেছেন। এই অসঙ্গতি দূর করার জন্য তারা আমাদের কাছে একটা স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করব।
শাহিনুল আশিক/এসএইচএ
