জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ সাহস ও তরুণ প্রজন্মকে জাগিয়ে তোলার প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেন, আবু সাঈদ শুধু বাংলাদেশে না, আবু সাঈদ নামটি পুরো পৃথিবীজুড়ে। আবু সাঈদ সাহসের প্রতীক, তরুণ প্রজন্মকে জাগিয়ে তোলার প্রতীক। আবু সাঈদ পুরো বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল আবু সাঈদের রক্তের স্রোতের ওপর দাঁড়িয়ে। ওই সময়ে আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিল। আবু সাঈদ সেদিন মনে করেছিল জীবন দিয়েই ফ্যাসিজমকে বিদায় করবো। এই ভূখণ্ডের কোনো আন্দোলন বিফলে যায় নাই।
জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শায়িত শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ছাত্রশিবির সভাপতি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও চেতনা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তার আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তার চেতনা তরুণ সমাজকে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করছে। শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ জুলাই আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। চব্বিশের ১৬ জুলাই জীবন উৎসর্গ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছেন আবু সাঈদ। প্রশাসনের কাছে আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, শান্ত ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদ হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান ছাত্রশিবির সভাপতি। একইসঙ্গে জুলাইযোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচারও দাবি করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদরা বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন নিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্রশিবির সবসময় কাজ করে যাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন, চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ ডা. এস এম খালিদুজ্জামান এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিলসহ রংপুর অঞ্চলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ। পরে তিনি শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেন।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর
