জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ বাহিনী রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করেছিল। আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে এই গণঅভ্যুত্থানের যাত্রা শুরু করেছিল। আবু সাঈদ একজন কৃষকের সন্তান ছিল। এই আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের বেশিরভাগ ছিল কৃষকের সন্তান। ফলে আমরা কৃষকের দুঃখ, কৃষকের কষ্ট অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে বুঝতে পারি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রামে টগরাইহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় কৃষক শক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। কিন্তু আমরা দেখি কৃষকরা সংগঠিত নয়। তাদের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে কথা বলার জন্য কোনো শক্তিশালী সংগঠন নেই। যে সকল সংগঠন আছে তারা কৃষকের পক্ষে কথা বলে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন সরকার কৃষকদের ন্যায্যমূল্য দিচ্ছে না। কৃষিকাজ তারা ছেড়ে দিচ্ছে। উত্তরবঙ্গে যে অর্থনৈতিক বৈষম্য এই সরকার তা দূর করতে পারে নাই। তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কোনো অর্জন নিয়ে ফিরে আসতে পারেন নাই।
তিনি বলেন, এই উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এমপি যেহেতু বিরোধী দলের, ফলে পরিকল্পিতভাবে কুড়িগ্রাম-রংপুরের বড় বড় উন্নয়ন বাজেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বড় কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয় নাই। এভাবে জনগণের অধিকার বঞ্চিত করছে এই সরকার। আমরা এটা মেনে নেব না। আমরা মনে করি উত্তরাঞ্চলের মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছে, তারা ভোট দিয়ে ১১ দলকে জয়যুক্ত করেছে। আমরা তাদের ভোটাধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার- সবকিছু আমরা রক্ষা করবো এটা আমাদের দায়িত্ব। এটা আপনাদের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি। ইলেকশনের আগে আমরা ওয়াদা দিয়েছি। জাতীয় সংসদে আমরা সে কথা তুলে ধরবো।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আমাদের কৃষকরা আজ বাজারে বৈষম্যের শিকার। অধিকাংশ কৃষকরা বাজারে ন্যায্যমূল্য পান না। আমাদের কৃষকরা নানা সময় ঋণ গ্রহণ করে থাকেন। সেই ঋণগুলো পরিশোধ করতে পারেন না বলে আমরা অনেক জায়গায় দেখেছি আমাদের কৃষকরা আত্মহত্যা করেন। এই বাংলাদেশে অনেকে আছেন যারা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপী অথচ আমাদের কৃষকরা ১০ হাজার ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে জীবন দিতে হয়, আত্মহত্যা করতে হয়। বড় লজ্জার বিষয়। বড় দুঃখের বিষয়। আমাদের কৃষিকে আধুনিকায়ন করতে হবে। নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে।
‘কৃষকের শক্তি জাতীয় মুক্তি’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান মোজাহিদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাঈদ উজ্বল, সদস্য সচিব গোলাম মর্তুজা সেলিম, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া প্রমুখ।
মমিনুল ইসলাম বাবু/আরএআর
