বিজ্ঞাপন

নিজেদের অর্থে সেতু নির্মাণ, ৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমালেন প্রবাসীরা

নিজেদের অর্থে সেতু নির্মাণ, ৫ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমালেন প্রবাসীরা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কাঁকড়ি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এলাকার প্রবাসীদের অর্থায়নে। এতে পাঁচটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমেছে।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) কাঁকড়ি নদীর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর এলাকার দরবেশ মার্কেট ও জুগীরকান্দি গ্রামের সংযোগস্থলে নির্মিত সেতুটি খুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাঁকড়ি নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের জুগীরকান্দি, বারইয়া, দরবেশ মার্কেট ও মজলিশপুর গ্রামের মানুষের ভোগান্তি ছিল সীমাহীন। বারবার সরকারের কাছে আবেদন করেও কোনো ফল মিলছিল না। পরে জুগীরকান্দি এলাকার প্রবাসীরা মিলে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ১২০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৬ ফুট প্রস্থ সেতুটি নির্মাণে সাড়ে ৬ লাখ টাকা ফান্ড সংগ্রহ করা হয়। পরে মাসখানেকের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

সেতুটিতে রড-সিমেন্টের ব্যবহার না করা হলেও উন্নত স্টিল ও লোহার পাত ও কাঠের সমন্বয়ে মজবুত করে তৈরি করা হয়েছে। বাঁশের সাঁকোর ঝুঁকি এড়িয়ে নতুন সেতু পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

জাকারিয়া কবির নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়েছে মানুষদের। এতে করে মুমূর্ষু রোগীসহ জরুরি সব কাজে ভোগান্তির কোনো শেষ ছিল না। জুগীরকান্দি গ্রামের সব প্রবাসীদের জন্য আমরা দোয়া করি। তাদের মহৎ উদ্যোগের ফলে হাজারো মানুষের কষ্ট লাঘব হয়েছে।

সুমন মিয়া নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই সেতুটি নির্মাণের ফলে পাঁচটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে। আগে স্কুল-কলেজে যেতে হলে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হতো। অনেকেই বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনারও শিকার হয়েছিলেন। এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রবাসীদের ধন্যবাদ।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাৎ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সেতুটি নির্মাণের কথা সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনেছি। আমি সেতুটি পরিদর্শনে যাবো। প্রবাসীদের এই কাজ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, তাতেই সমাজের উন্নয়ন পরিপূর্ণ হবে।

আরিফ আজগর/এএমকে