সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় আহত এইচএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। একই ঘটনায় তার বড় ভাই মো. হাসান গুরুতর আহত হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহমানের মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুর রহমান রায়গঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলজোড় নদীর পশ্চিম পাড় এলাকার ফিরোজের ছেলে। তিনি রায়গঞ্জ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী এবং চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. তারা শেখের ছেলে টিটোনের সঙ্গে দুই ভাইয়ের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে টিটোন বার্মিজ ছুরি ও চাপাতি দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। এতে আব্দুর রহমান ও তার বড় ভাই হাসান গুরুতর আহত হন।
আহতদের প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আব্দুর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে তার বড় ভাই হাসান এখনও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আব্দুর রহমানের সহপাঠী রেজুয়ান হাসান সিফাত, সিমান্ত তালুকদার ও শৌরভ হাসান বলেন, রহমান একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
অভিযুক্ত টিটোন ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রায়গঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে দুজন গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মো. নাজমুল হাসান/এসএইচএ
