বিজ্ঞাপন

এইচএসসি পরীক্ষায় ২২ মিনিট পর প্রশ্নপত্র, এসিল্যান্ডকে স্ট্যান্ড রিলিজ

এইচএসসি পরীক্ষায় ২২ মিনিট পর প্রশ্নপত্র, এসিল্যান্ডকে স্ট্যান্ড রিলিজ

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুরে অবস্থিত সৈয়দ আহম্মদ কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষায় নির্ধারিত সময়ের ২২ মিনিট পর প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানাজ পারভীনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

তাকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কেন্দ্র সচিব ও সৈয়দ আহম্মদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইদুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা ট্রেজারির ট্রাঙ্ক থেকে ভুলবশত অন্য বিষয়ের প্রশ্নপত্র নিয়ে আসায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরে সঠিক প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয় এবং অতিরিক্ত সময় দিয়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ভুল আরও কয়েকটি কলেজে ঘটেছে।

কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সকালে এইচএসসির ভূগোল প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরও কেন্দ্রে সঠিক প্রশ্নপত্র পৌঁছেনি। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশে নির্ধারিত সময়ের ২২ মিনিট পর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত প্রতিবেদন পাঠান।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে এসিল্যান্ড শাহানাজ পারভীনকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও গাবতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারও দায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আরা চৌধুরী মোবাইল ফোনে বলেন, প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র সচিবের ব্যর্থতা এবং পরীক্ষা পরিচালনায় অদক্ষতার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডে পৌঁছেছে। আগামী রোববার শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আব্দুল মোমিন/আরকে

বিজ্ঞাপন