বিজ্ঞাপন

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

‘জনগণের ক্ষমতা নিয়ে খেললে শেখ হাসিনার মতো পরিণতি হবে’

‘জনগণের ক্ষমতা নিয়ে খেললে শেখ হাসিনার মতো পরিণতি হবে’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, দীর্ঘ ২০ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। জনগণের ক্ষমতাকে কেউ যদি দলীয় বা ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তবে তার পরিণতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতোই হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে শহরের নান্নু টাওয়ারের রাজবাড়ী কনভেনশন সেন্টারে জেলা বিএনপি, সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা,  ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এই লড়াইয়ে আমরা এবং আপনারা একে অপরের সহযোগী ছিলাম। একদিন-দুইদিন নয়, জীবনের ২০ বছর আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। এই সময়ে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, মারধর, অপমান-অবমাননা সহ্য করেছি। অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ২০ বছরে আমরা কোথাও মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারিনি। সর্বত্র ভয় ও শঙ্কা কাজ করত। শত শত নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল আমার।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। সেই গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। জনগণের ক্ষমতা নিয়ে কেউ যদি হীন বা দলীয় স্বার্থে খেলার চেষ্টা করে, তবে তারও নির্মম পরিণতি হবে।

তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনের ফলেই একটি নির্বাচন করার সুযোগ তৈরি হয়। সেই নির্বাচনে আপনারা আমার পাশে ছিলেন। এজন্য আমি আপনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।

নিজ এলাকার স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই শহরেই আমরা বড় হয়েছি। কিন্তু এখানে আমাদের অসম্মান করা হয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। আমাদের বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়নি। খলিফাপট্টিতে আমার জনসভায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ হামলা চালায়। গত ২০টি বছর আমাদের ওপর দিয়ে কী গেছে, সেটা আমরা জানি।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের পর থেকে আমাদের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। মিথ্যা মামলায় আমাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজ আমি আপনাদের এলাকার সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হয়েছি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয় অর্জন করেছি, তা বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। গত চার মাসের অভিজ্ঞতা আমার কাছে সুখকর মনে হয়নি। তাই পার্টির নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে এবং জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে।

জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, যুগ্ম আহ্বায়ক আকমল হোসেন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক এ মজিদ বিশ্বাসসহ জেলা, উপজেলা,পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে আগত নের্তবৃন্দ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় জেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এসএইচএ