পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ভালো সমাজ গড়া সকলের দায়িত্ব। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যত শিক্ষিত হবে, তত মাদক থেকে দূরে থাকবে, অপকর্ম থেকে দূরে থাকবে। যারা মারামারি করেন, কাইজ্জা করেন, তারা আমার কাছের লোক হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা পুলিশ আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও প্রগতি’ শীর্ষক এ সামাজিক সচেতনতামূলক মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
নগরকান্দার ডাঙ্গী ইউনিয়নকে ‘সংঘাত ও কাইজ্জা-প্রবণ’ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান অতিথি শামা ওবায়েদ তার নির্বাচনী এলাকা সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনের জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ইউনিয়নে ইউনিয়নে দ্বন্দ্ব মিলমিশ করার সভা আর করতে চাই না। স্বৈরাচার সরকার গণতন্ত্র হরণ করেছিল। আমরা কেবল গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছি। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না।
প্রধান অতিথি গ্রাম্য সংঘাতকারীদের সাবধান করে বলেন, ‘ডাঙ্গী ইউনিয়নসহ নগরকান্দা-সালথায় এরপরে ঢাল-সড়কিসহ বাড়াবাড়ি করার জিনিস পুলিশের নিকট জমা দিতে হবে। ঢাল-সড়কি ছাইড়া সবাই যদি একসাথে থাকতে পারেন, আমি তাহলে খুশি হব।’
বক্তব্যের শুরুতে প্রধান অতিথি জেলা পুলিশ আয়োজিত এ উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রতিবাদের এ সভা। এ সভা একটি প্রতীকী সভা। এ সভা শুধু ডাঙ্গী ইউনিয়নের জন্য নয়, এটি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন, প্রত্যেকটি গ্রাম ও নগরকান্দা পৌরসভার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের জন্য প্রযোজ্য।
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, অন্যায়-অপকর্ম ও অসামাজিক কাজকর্ম রোধ করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। জুয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধেও শক্ত আইন পাস হয়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা সুন্দর স্বপ্ন দেখবে, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বে, এটা বাবা-মা হিসেবে প্রত্যেকের কাম্য। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদেরকে মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে, জুয়া থেকে দূরে থাকতে হবে।
ওই সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, গত তিন মাসে ডাঙ্গী ইউনিয়নে ৩৫টি মামলা হয়েছে, এর মধ্যে হয়েছে ১০টিই মারামারির মামলা। মারামারির নামে মহাসড়ক বন্ধ করতে দেওয়া হবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের আগে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান ঘোষণা দিয়ে মঞ্চের সামনে গ্রাম্য কাইজ্জা না করার শর্তে ডাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রইস উদ্দিন চোকদার ও ডাঙ্গী ইউনিয়নের বাসিন্দা, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান তারা মোল্লার মধ্যে থাকা দীর্ঘ দিনের গ্রাম্য সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে মিলিয়ে দেন। তারা আর সংঘাত করবেন না বলে সভার সকলকে অবগত করেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন।
নগরকান্দা মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম সাইয়াদুর রহমানের পরিচালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন ও খন্দকার ফজলুল হক, নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, ফরিদপুর জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
জহির হোসেন/এসএইচএ
