বিজ্ঞাপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল

১০ সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদের ৮টিই শূন্য, সংকটে চিকিৎসাসেবা

১০ সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদের ৮টিই শূন্য, সংকটে চিকিৎসাসেবা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে সার্জারি, মেডিসিন ও শিশু বিভাগে তেমন কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগীদের বাধ্য হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদের মধ্যে মাত্র ২ জন এবং জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১৪টি পদের মধ্যে ৭ জন কর্মরত আছেন। এছাড়া ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের ৮টি পদের ৬টিই খালি রয়েছে। সহকারী সার্জনের ২৮টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১০ জন। গত এক মাসে হাসপাতাল থেকে ৭ জন চিকিৎসক বদলি হলেও নতুন যোগ দিয়েছেন মাত্র একজন, যার ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এদিকে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ, অর্থাৎ প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। পাশাপাশি বহির্বিভাগে দৈনিক দুই হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদেরও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেককে রাজশাহীর দিকে ছুটতে হচ্ছে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোজাম্মেল বলেন, আমার বাচ্চার গতকাল রাত থেকেই জ্বর ও সর্দি ঠান্ডা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা পেলাম। হাসপাতালে এসে শুনলাম কিছু ডাক্তার বদলি হয়েছে আবার কিছু পদ খালিও আছে। তাই সরকারের কাছে দাবি জানায় দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন এই ফাঁকা পদগুলো পূরণ করা হয়।

মশিউর জামান নামের এক সমাজকর্মী বলেন, আমাদের হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবৎ চিকিৎসক সংকট রয়েছে। আবার নতুন করে কয়েকজন ডাক্তারকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্ত নতুন কোনো চিকিৎসক এই হাসপাতালে যোগদান করেনি। ফলে অনেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে দাবি দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এখানে নিয়ে আসা হোক।

আব্দুলাহ হিল কাফি নামের আরেকজন বলেন, জেলা হাসপাতাল হওয়ার পরও আমাদের এখানে অনেক ডাক্তার সংকট ছিল। নতুন করে ডাক্তার নিয়ে না এসে যারা ছিল তাদেরকেই বদলি করা হয়েছে। ফলে ডাক্তার সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, আমাদের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী চিকিৎসার জন্য আসে, সেই তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা অনেক কম। তারপরও রোগীর চাপ সামাল দিতে সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক নিয়ে মানসম্মত সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়া শূন্য পদগুলো পূরণ এবং নতুন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানিয়েছি। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত নতুন চিকিৎসক পদায়ন করবেন।

আশিক আলী/আরকে 

বিজ্ঞাপন