কক্সবাজারের টেকনাফে চারজনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর মামলার মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারে র্যাব-১৫-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর উপ-অধিনায়ক মেজর এস. এম. মারুফ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে মো. রাসেল (২৮) এবং একই ইউনিয়নের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার রশিদ আহমদের ছেলে আরমান (২১)।
র্যাব জানায়, গত ২৩ জুন টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রের মুখে চারজনকে অপহরণ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পরে অপহৃত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে জনপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহৃতদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়।
মেজর এস. এম. মারুফ বলেন, ঘটনার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩০ জুন হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার গহীন পাহাড়ে বিশেষ অভিযান চালায় র্যাব-১৫। ওই অভিযানে পাহাড়ের ভেতর থেকে চারজন অপহৃতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় মামলা হওয়ার পর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি রাসেল ও তার সহযোগী আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় অপহরণে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
র্যাবের উপ-অধিনায়ক আরও বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে। অস্ত্র, মাদক ও অপহরণসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র্যাব-১৫-এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/এসএইচএ
