অনবরত কান্না করে যাচ্ছিল এক শিশু শিক্ষার্থী। তার মুখেই বার বার বেত ঢুকিয়ে হাসছিল শিক্ষক। আবার সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে ওই শিক্ষক লিখলেন ‘পিচ্চি পোলাপানরে কান্না করাইতে ভালোই লাগে’। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে ফেসবুকে এক ভিডিও পোস্টে ক্ষমা চেয়ছেন ওই শিক্ষক।
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের দারুল উলুম কোরআন মাদ্রাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইমরান হোসেন।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া।
তবে এ ঘটনায় চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের সঙ্গে। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। তিনি ওই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। প্রায় আড়াই মাস আগে তাকে মাদরাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি টিকটক ও রিলস ‘আসক্ত’ ছিলেন।
মাদরাসাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকের পোস্ট করা শিশুটির কান্নার ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায়। সে হাত দিয়ে বেতটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি। উল্টো শিক্ষকের হাসি শোনা যায় ভিডিওতে। ১৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই শিক্ষক ভিডিওটি মুছে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) ফেসবুকে লাইভে এসে দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষক ইমরান সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইমরান টিকটক ও রিলস ‘আসক্ত’ ছিলেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নজরে আসে। অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই প্রায় দুই মাস আগে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে ভিডিওটি চাকরিতে থাকাকালীন ধারণ করে রেখে পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন। শুরু থেকেই তার আচরণে নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভনমূলক আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদানের অভিযোগ ওঠে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু তিনি কারো কথাই শুনতেন না। এজন্য তাকে বরখাস্ত করা হয়।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষক রায়পুরে নেই। প্রায় একমাস ধরে মাদরাসাটিও বন্ধ আছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসান মাহমুদ শাকিল/এএমকে
