চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ১৯ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল কর্মী শহীদ মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, মোসলেম উদ্দিন মিলন ও সাজ্জাদ হোসেনের দ্বিতীয় শাহাদতবার্ষিকীতে রংপুরে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘রক্তাক্ত রাজপথ’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রংপুর মহানগর যুবদল।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন।
রংপুর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নুরুন্নবী চৌধুরী মিলনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আতিকুল ইসলাম লেলিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও রংপুর জেলা সভাপতি নাজমুল আলম নাজু এবং বিশেষ বক্তা ছিলেন মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহির আলম নয়ন।
বক্তারা জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার প্রধান ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সহযোগিতার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো দিন ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। জাতিসংঘ স্বীকৃত ‘গণহত্যার’ বিচার করা হবে। হুকুমদাতা পলাতক শেখ হাসিনাকে দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হবে। হাসিনার সহযোগীরা দেশের ভেতরে বিভিন্নভাবে সক্রিয় হয়ে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ ছাত্র-জনতাও মাঠে থাকবে।
স্মরণসভায় স্মৃতিচারণ করে জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত শেষ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের মা ময়না বেগম, শহীদ মেরাজুল ইসলাম মেরাজের স্ত্রী নাজমীম ইসলাম, ও শহীদ মোসলেম উদ্দিন মিলনের স্ত্রী দিলরুবা বেগম।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের অন্যতম উপায় হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন। আমরা বিশ্বাস করি বিএনপি সরকার গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে।
সভায় অন্যদের মধ্যে মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াহিদ মুরাদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান খান সুজন বক্তব্য রাখেন।
সভা শেষে মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। পরে সকল জুলাই শহীদসহ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রংপুর নগরীর সিটি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। তারা হলেন- সবজি বিক্রেতা সাজ্জাদ হোসেন (২৯), স্বর্ণশ্রমিক মোসলেম উদ্দিন মিলন (৩৫), ফল বিক্রেতা মেরাজুল ইসলাম মেরাজ (৩৭) আর শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল তাহির (২৮)।
এর আগের দিন, ১৮ জুলাই বিকেলে নগরীর মডার্ন মোড়ে ছাত্র-জনতার সাথে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশা চালক ঘাঘট পূর্ব পাড়ার মানিক মিয়া (৩৫) শহীদ হন।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ
