মাত্র এক মিনিটের তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে ফেনীর সোনাগাজীর মতিগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম স্বরাজপুর গ্রামের চিরচেনা দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। ঝড়ে বসতঘর উড়ে গেছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে, উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ। মুহূর্তের এই তাণ্ডবে অন্তত ১৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ তীব্র ঝড় শুরু হয়। প্রবল বাতাসে ১০ থেকে ১৫টি টিনের ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে উড়ে গিয়ে খোলা মাঠ, গাছ ও বৈদ্যুতিক তারের ওপর গিয়ে পড়ে। টিন ও পাকা ঘর মিলিয়ে অন্তত ১৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝড়ে চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে তারসহ মাটিতে পড়ে যায়। এতে ১৫ থেকে ২০টি বিদ্যুৎ মিটার তারসহ ঘর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারের বেশি গাছ উপড়ে বা ভেঙে পড়ে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছপালা ও বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির দৃশ্যে পুরো গ্রামটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

স্বরাজপুর সমাজকল্যাণ সংগঠনের উপদেষ্টা ও উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি নুরুল হুদা বলেন, আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের গ্রামটি একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ১৮ থেকে ২০টি পরিবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সরেজমিনে না দেখলে বোঝানো সম্ভব নয়। ঝড় থামার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকরা উপড়ে পড়া গাছ ও ভাঙা ডালপালা সরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করার কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতেও তারা কাজ করেন।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের হিসেবে, এ দুর্যোগে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বসতভিটা, গাছপালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা সরেজমিনে দেখেছি। তাদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সোনাগাজী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার ও মিটারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা বলেন, অনেকগুলো ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে চার থেকে পাঁচটি ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত। উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি পরিবারকে পরিস্থিতি বিবেচনায় খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। যাদের ক্ষতির পরিমাণ বেশি, তাদের নগদ অর্থও দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
তারেক চৌধুরী/এএমকে
