জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের মানুষের দুটি লক্ষ্য ছিল। একটি ছিল শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো, আরেকটি ছিল তার তৈরি শাসন কাঠামো ভেঙে ফেলা। প্রথম লক্ষ্য অর্জিত হলেও দ্বিতীয় লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক তেঁতুলতলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থানের সময়টাতে বাংলাদেশের মানুষের দুইটা লক্ষ্য ছিল। এক, বাংলাদেশটাকে হাসিনা মুক্ত করা। দুই, বাংলাদেশটাকে হাসিনার কাঠামো মুক্ত করা। আমরা বাংলাদেশটাকে হাসিনা মুক্ত করতে পেরেছি। আওয়ামী লীগ মুক্ত করতে পেরেছি। শাসন কাঠামো থেকে তারা পরাজিত হয়ে দিল্লিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে, পালিয়ে গেছে। কিন্তু যে নিয়ম-কানুনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দেশটা পরিচালনা করত, সেই নিয়ম-কানুনগুলো এখনো পর্যন্ত দেশে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সংস্কার চেয়েছিল। এটা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত ছিল না, জনগণেরও সিদ্ধান্ত ছিল। রাজনৈতিক দলগুলো আগে একমত হয়েছে, পরে গণভোটে দেওয়া হয়েছে। সেই গণভোটেও ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেই সংস্কার তারা বাস্তবায়ন করতে চায় না।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, তারা সংবিধান সংশোধনের কথা বলে। আমরা তো সংবিধান সংশোধনের মধ্যে থাকতে চাই নাই। আমরা এই সংবিধানের আমূল পরিবর্তন চেয়েছি। এই সংবিধানের ভিত্তিমূল পরিবর্তন চেয়েছি। এই সংবিধানে ফ্যাসিবাদের যত বীজ রয়েছে, সবকিছুকে উৎপাটন করে এটাকে গণমানুষের সংবিধানে পরিণত করতে চেয়েছি। আমরা কুসুম কুসুম সংশোধনী না, আমরা বিপ্লবী সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটার পরিবর্তন চেয়েছি।
তিনি অভিযোগ করেন, তারা যদি সংস্কার মেনে নেয়, তাহলে দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। তাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটা স্থানীয় সরকারের কাঠামোতে একদলীয় শাসন শুরু করার পায়তারা করছে।
এসময় তিনি দাবি করেন, গোটা বাংলাদেশের জেলা পরিষদগুলোতে বিএনপির পদধারীদের প্রশাসক করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোতেও বিএনপির পদধারীরা প্রশাসক। এখন ইউনিয়ন পর্যায়েও বিএনপির পদধারীদের প্রশাসক বানানোর চক্রান্ত চলছে। আমরা তো বলি, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভোটে যে প্রতিনিধি আসার কথা, সেটা যদি সরকারের নির্দেশে বসে, তাহলে সেটা গণতন্ত্রের নামান্তর হতে পারে না। এটা গণতন্ত্রের সঙ্গে যায় না, এটা একদলীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যায়।
বিএনপির সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের ক্রেডিট নেয়। কিন্তু স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতিনিধি বসানোর মধ্য দিয়ে তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র থেকে সরে গিয়ে একদলীয় শাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
এসময় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠন সারজিস আলম, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ প্রমুখ।
নুর হাসান/এসএইচএ
