বিজ্ঞাপন

সীমান্তে পুশইন হলে হাজারো মানুষ নিয়ে দাঁড়াব : সারজিস আলম

সীমান্তে পুশইন হলে হাজারো মানুষ নিয়ে দাঁড়াব : সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা সীমান্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তগুলোর একটি। এ সীমান্ত দিয়ে কেউ ‘পুশইন’ বা হত্যার চেষ্টা করলে স্থানীয় মানুষ বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ তোলেন।

রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক তেঁতুলতলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সীমান্ত প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, আমাদের এই সীমান্তটা রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে এই তেঁতুলিয়া, এই বাংলাবান্ধা। এখানে আছে চিকেন নেক। ভারত কিংবা ওই বিএসএফ খুনি বাহিনী যদি চেষ্টা করে আমার সীমান্ত দিয়ে একটা পুশইন করবে, একটা হত্যা করবে, আমার তেঁতুলিয়ার মানুষ আমরা যে যেখানেই থাকি, আমার বিজিবির ভাইদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাজারে হাজারে ওই সীমান্তে দাঁড়িয়ে যেতে হবে ইনশাআল্লাহ। মনে রাখবেন, সীমান্ত যদি রক্ষা না হয়, আমাদের ঘরও কিন্তু রক্ষা হবে না।

পথসভায় জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান ডিসিকে আমরা দেখি একটা কলাগাছের মতো। প্রত্যেকটা সরকারি-বেসরকারি প্রোগ্রামে শুধু বিএনপির নেতাদের নিয়ে প্রোগ্রাম করেন। স্থানীয় মিটিং, আইনশৃঙ্খলা মিটিং সব জায়গায় শুধু বিএনপির লোক দিয়ে মিটিং করেন। দেশটা কি আরেকটা স্বৈরাচার হয়েছে? আমরা এটা হতে দেব না।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সময় একজন ডিসি ছিলেন জহিরুল ইসলাম। সেই ডিসি ছিল পঞ্চগড় জেলার ভারপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সভাপতি। আমাদের বর্তমান ডিসি সাহেব হচ্ছেন পঞ্চগড় জেলার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সারজিস বলেন, ১৪, ১৮, ২৪-এর নির্বাচন যারা রাতের অন্ধকারে ভোট চুরির মধ্য দিয়ে করেছিল, তারা ভেবেছিল সচিব হবে। আজকে একটারও চাকরি নাই। আওয়ামী লীগ ছিল, আওয়ামী লীগ নাই। বিএনপি আজকে আছে, কালকে না-ও থাকতে পারে। কিন্তু জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করলে, রাষ্ট্রের সঙ্গে গাদ্দারি করলে, দলের দালালি করলে এই বাংলাদেশে জায়গা হবে না।

পঞ্চগড়-১ আসনে বিশেষ বরাদ্দের অর্থের হিসাব চেয়ে তিনি বলেন, গত পাঁচ মাসে প্রায় চারটি বিশেষ বরাদ্দে এক কোটি টাকার বেশি এসেছে। এনসিপির সংসদ সদস্যরা এসব টাকার হিসাব প্রকাশ করলেও পঞ্চগড়-১ আসনের বরাদ্দের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। 
ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই টাকা যদি আপনার নেতাকর্মীদের পকেটে ঢুকাতে চান, আগামীতে এটা আমরা হতে দিব না।

আটোয়ারী উপজেলার একটি খাল খনন প্রকল্পের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ৫১ লাখ টাকার প্রকল্পে এত অনিয়ম হয়েছে যে খেতে খেতে এখন শুধু খালটা খাওয়া বাকি আছে। যদি পারত, খালটাও গিলে খেয়ে ফেলত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি সুবিধার কার্ড বিতরণে দলীয় পরিচয় ও অর্থ লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

এলএসডি গুদামে কৃষকদের ধান-গম সংরক্ষণে বাধা দেওয়া এবং সেখানে দলীয় সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও করেন সারজিস আলম। পাশাপাশি সারের লাইসেন্স, বিএডিসির লাইসেন্স, কীটনাশকের লাইসেন্স, স্কুল ও হাসপাতালের কমিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপির দলীয় লোকদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আগের মতো একই খেলা যদি খেলতে চান, আগামীর বাংলাদেশে আপনাদের অবস্থা আগে যা হয়েছে, তার চেয়েও খারাপ হবে।

এসময় আরও বক্তব্য দেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ প্রমুখ।

নুর হাসান/এসএইচএ