সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, গত দুই দশকে দেশের সংস্কৃতি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশের সামগ্রিক সংস্কৃতিকে পুনর্গঠন ও বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে যথাযথভাবে মূল্যায়নের লক্ষ্যে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বছরব্যাপী দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ‘বর্ষায় নজরুল’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২৫ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সারাদেশে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি চলবে। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ দেশের অন্যান্য মনীষীদের নিয়েও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হলেও বর্তমানে এ খাতে স্থবিরতা রয়েছে। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নানা উদ্যোগ নিয়েছে। জেলার জন্য ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে অডিটোরিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজবাড়ীর অবহেলিত অ্যাক্রোবেটিকস সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রূপ দিতে কাজ চলছে। আগামী ৬ আগস্ট ২০ সদস্যের একটি দল চীনে দুই মাসের প্রশিক্ষণে যাবে। এছাড়া জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণে একটি জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের তরুণদের মধ্যে অসংখ্য প্রতিভা রয়েছে। তাদের বিকাশে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক পরিবেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী রাজবাড়ীর সুইমিংপুল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এটি পুনরায় সংস্কার করে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম সাঁতার শেখার সুযোগ পায়।
তিনি আরও বলেন, গত দুই দশকে শুধু সংস্কৃতি নয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও অবহেলার শিকার হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে পুলিশ সুপার মো. মনজুর মোরশেদ, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ-উল-হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপমা রায়, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু, সাবেক সদস্য সচিব এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, আকমল হোসেন, সদস্য এ মজিদ বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরকে
