টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদী রক্ষা বাঁধের ১০০ মিটার অংশে আকস্মিক ধস দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকিতে নদী রক্ষা বাঁধ ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া রোববার (১৯ জুলাই) থেকে ওই সড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
নদীর ভয়াল আগ্রাসনে সড়কের একাধিক অংশ ভাঙনের মুখে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। যে কোনো সময় ভাঙন আরও বিস্তৃত হলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি নদীর স্রোতের আঘাত কমাতে সড়কের পাশের বড় বড় গাছ কেটে গাছের গুঁড়ি নদীতে ফেলা হচ্ছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর থেকে ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলছেন শ্রমিকরা। নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে চলছে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি কেবল সাময়িক উদ্যোগ। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে একই সংকট প্রতিবছরই ফিরে আসবে।

ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সবধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, ভোগান্তি এবং জনদুর্ভোগ।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতি বছর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী নদী শাসনের উদ্যোগ না থাকায় সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাই তারা দ্রুত একটি টেকসই নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সালিম আহমেদ বলেন, কয়েকদিন ধরেই যমুনার তীব্র স্রোতে নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন অংশ। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে মহাসড়ক গ্রাস করতে পারে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল- তারাকান্দি-ভূঞাপুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সংবাদ পেয়ে আমরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শক করি। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাধের যেসব জায়গা সংস্কার করা দরকার সেগুলো সংস্কার করলেই সড়ক নিরাপদ থাকবে।
আরিফুল ইসলাম/এএমকে
