মাগুরায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ঘটনায় হাসান শেখ (২৮) নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হাসান শেখ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের ফজলু শেখের ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামে রাজিয়া খাতুনের ওপর ধর্ষণের চেষ্টা চালায় হাসান শেখ। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তিনি রাজিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো ব্লেড দিয়ে তার গলা কেটে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ১৯ মার্চ নিহতের বাবা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, তদন্ত এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে হাসান শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
নিহতের মা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে রাজিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এ রায়ে সন্তোষ ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেন, এ রায় বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন বাবলু জানিয়েছেন, তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ সংঘটিত এ মর্মান্তিক ঘটনা মাগুরাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সে সময় জেলার বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।
তাছিন জামান/এএমকে
