রংপুরের মিঠাপুকুরে বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে বিষধর সাপের কামড়ে হাবিবুর রহমান (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হাবিবুর রহমান ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। সাপে কাটার পর হাসপাতালে না নিয়ে গ্রাম্য কবিরাজকে দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানোর কারণেই চিকিৎসায় কালক্ষেপণ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে তার এই মৃত্যুর সংবাদটি সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অন্যভাবে। এতে দাবি করা হয়, সাপের কামড়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় বাড়ির অদূরে মাছ ধরতে যান হাবিবুর রহমান। রাত ১০টার দিকে পুকুর পাড় দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার সময় একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে পায়ের ওপরে শক্ত বাঁধন দিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। তবে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে ঝাড়ফুঁকের জন্য নিয়ে যান। এতে সাময়িক সুস্থ বোধ করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে।
পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. আব্দুল হামিদ।
হাবিবুর রহমানের মৃত্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। দাবি করা হয়েছে, আর্জেন্টিনা সমর্থক হাবিবুর রহমান সাপের কামড় খেয়ে চিকিৎসা নিতে না গিয়ে ফুটবল খেলা দেখতে থাকা অবস্থায় মারা যান। তবে এ ধরনের দাবি পক্ষে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং খেলা চলাকালীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
লতিবপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন বাদল সাপের কামড়ে ওই কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার রাতে বাড়ির পাশে তাকে সাপে কামড় দেয়। পরে তাকে প্রথমে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থা বেগতিক হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখান থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।
আর্জেন্টিনার খেলা দেখা অবস্থায় মৃত্যু প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য বলেন, তিনি তো ওই সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাহলে খেলা দেখলেন কখন? ফেসবুকে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তা ভুয়া ও বিভ্রান্তিমূলক। মূলত মাছ ধরে ফেরার পথেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, কোনো খেলা দেখতে গিয়ে নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য এসেছে। তিনি সাপে কাটা রোগীদের কবিরাজের কাছে না নিয়ে সরাসরি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ বলেন, সাপের কামড়ে একজনের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। তবে সাপের কামড় খেয়েও চিকিৎসা নিতে না গিয়ে ফুটবল খেলা দেখতে থাকা আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে বলে যা শোনা যাচ্ছে, তা সঠিক তথ্য নয়।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে
