বিজ্ঞাপন

দুই বছরেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণকাজ, পানিতে তলিয়ে বন্ধ বিকল্প সাঁকো

দুই বছরেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণকাজ, পানিতে তলিয়ে বন্ধ বিকল্প সাঁকো

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ও কুলটিয়া ইউনিয়নের সংযোগস্থলে একটি সেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের এক বছরের বেশি পার হলেও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে ভারী বর্ষণে সেতুর পাশে নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সাঁকো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবদহের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হরিদাসকাটি ও পদ্মনাথপুর গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত খালের ওপরের পুরোনো সেতুটি প্রায় দুই বছর আগে ভেঙে পড়ে। এরপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় নেহালপুর ইউপি-হাজিরহাট বাজার হয়ে কুলটিয়া ইউনিয়ন সড়কের ওপর ২০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ১ মে শুরু হয়। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে সাতক্ষীরার ঠিকাদার ইকবাল জমাদ্দার। তার পক্ষে স্থানীয় ঠিকাদার আব্দুল খালেক কাজ বাস্তবায়ন করছেন।

পানির নিচে বিকল্প সাঁকো, চরম ভোগান্তি

সেতু নির্মাণকালে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য পাশ দিয়ে কাঠের অস্থায়ী পাটাতন নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারে সেটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণে খালের পানি বেড়ে পাটাতনটি পুরোপুরি তলিয়ে যাওয়ায় পারাপার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে হরিদাসকাটি ইউনিয়নের ভুলবাড়িয়া, পাঁচকাটিয়া, পাঁচবাড়িয়া, লেবুগাতী এবং কুলটিয়া ইউনিয়নের ডাংপাড়িয়ালি, পদ্মনাথপুর, ডাঙ্গামহিষদিয়া ও পোড়াডাঙ্গাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে কেশবপুর, অভয়নগরের নওয়াপাড়া এবং উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাঁকো অচল হয়ে যাওয়ায় অনেককে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ

পাঁচকাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা অমিতাভ মল্লিক বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মনাথপুরে যাচ্ছিলাম। গিয়ে দেখি সাঁকোর ওপর প্রায় এক ফুট পানি। ঝুঁকি নিয়ে পার হতে না পেরে প্রায় সাত কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে সেতুর কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিন পরই বর্ষার পানিতে নির্মাণ এলাকা তলিয়ে যায়। পরে কাজ পুনরায় শুরু হলেও অস্থায়ী সাঁকোটি আর টেকসইভাবে সংস্কার করা হয়নি। কয়েকদিন আগে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেটিও পানির নিচে চলে গেছে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা 

নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার আব্দুল খালেক বলেন, দুই দফায় কাজ শুরু করার পরই বর্ষার পানিতে নির্মাণ এলাকা তলিয়ে যায়। এজন্য কাজে বিলম্ব হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। সাঁকোটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানা ছিল না।

মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান বলেন, সেতুর প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেতুর দুই পাশের জমি অধিগ্রহণ ও সংকুলান নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য এলজিইডির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল আসবেন। এরপর কাজ শেষের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, অস্থায়ী সাঁকো পানিতে তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দ্রুত উঁচু করে নতুনভাবে সাঁকো নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেজওয়ান বাপ্পী/এএমকে