জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত বাজেট দেওয়া হয় না, বাজেট বৈষম্যের মধ্যে রাখা হয়।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই রংপুর অঞ্চল, পঞ্চগড়সহ গোটা রংপুর বিভাগকে আর বাজেট বৈষম্যের মধ্যে রাখা যাবে না। বাংলাদেশে একটা সমতাভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদায় শহিদ মিনার চত্বরে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, সেরকম একটা লক্ষ্য নিয়েই জাতীয় নাগরিক পার্টি বাংলাদেশে একটা সুন্দরের রাজনীতি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নারী-পুরুষ, আলেম-ওলামা, কৃষক, শিক্ষক, ছাত্র-জনতা সবাইকে নিয়ে আমরা পথচলা শুরু করেছি। সেই পথচলায় আমরা আপনাদের পাশে চাই।
গণভোট ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শুনি, গণভোট যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশের ওপর হলো, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশকে অবৈধ বলা হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশকে কোন প্রেক্ষিতে আপনারা অবৈধ বলেন? আবার একদিকে সেই গণভোটের “হ্যাঁ”-এর পক্ষেও অবস্থান নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। আপনাদের মনের মধ্যে গণভোটের “হ্যাঁ”-এর পক্ষে অবস্থান ছিল, আমরা জানি। জাতির সামনে তো আপনারা বড় বড় নেতারা “হ্যাঁ”-এর কথা বলেছিলেন। অতএব মুখ দিয়ে যেটা স্বীকার করেছিলেন, সেই কথা থেকে যখন দূরে সরে যান, তখনই আপনাদের এই দ্বিমুখী আচরণ বাংলাদেশের মানুষ পছন্দ করে না।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশ কার্যত সংবিধান থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। বাংলাদেশে ৫ তারিখ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত কোনো সরকার ছিল না। এই সময়টাকে আপনি সংবিধানের কোন ধারা দিয়ে ব্যাখ্যা করবেন? বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার করার কোনো বিধান ছিল না সংবিধানে। কোন সংবিধান বলে আপনি সেটাকে ব্যাখ্যায় নিয়ে আসবেন?
তিনি আরও বলেন, একথাই সত্য, ৫ আগস্টের পরে বিদ্যমান সংবিধানের খুবই অল্প কিছু জায়গা কার্যকর ছিল। একটা কোয়াজাই কনস্টিটিউশনাল পজিশনে আমরা ছিলাম। যেখানে সংবিধানের যে অংশগুলো গণঅভ্যুত্থানের ফলাফলের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ, সেগুলো অকার্যকর ছিল। আর যেগুলো সংগতিপূর্ণ, শুধু ততটুকুই কার্যকর ছিল। আমরা এই সংবিধানের ঘের থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন একটা ভিত্তিমূলের ভিত্তিতে বাংলাদেশে একটা সংবিধান প্রণয়ন করতে চেয়েছিলাম। সে কারণেই আমরা সংশোধনের মধ্য দিয়ে নয়, সংবিধান সংস্কারের মধ্য দিয়ে নতুন সংবিধানের পথে যাত্রার কথা বলেছিলাম।
আখতার হোসেন বলেন, আমাদের সেই যাত্রায় একটা বিঘ্ন তৈরি করা হয়েছে। এতগুলো মানুষ যে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেই গণভোটকে খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ এটা ভুলে যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে তারপর বাংলাদেশে অন্য সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হবে।
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরে এই এনসিপি নেতা বলেন, এই বাংলাদেশটা আগে যেভাবে চলেছে, সামনের দিনে সেভাবে চলুক, আমরা তা চাই না। আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে মানুষের ভোটাধিকার থাকবে, নাগরিক অধিকার থাকবে। থানায় গিয়ে মানুষ হয়রানির মধ্যে পড়বে না। সচিবালয়ে মানুষের পক্ষের কাজগুলো ফাইলে আটকে থাকবে না। সীমান্তে কোনো ভিনদেশি শক্তি তাকানোর সাহস করবে না। যে প্রকল্পগুলো নেওয়া হবে, সেগুলো জনস্বার্থেই নেওয়া হবে এবং জনগণের পক্ষে কাজ করবে। বাংলাদেশটাকে এমনভাবে গড়তে চাই, যেখানে একদলের পক্ষে কেউ থাকবে না, বরং একটা গণতান্ত্রিক বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হবো।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদসহ দলের অন্যান্য নেতারা।
নুর হাসান/এএমকে
