ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমিতে সরকারি উদ্যোগে রোপণ করা ১৪ হাজার ৪২০টি চারা গাছ কেটে ও উপড়ে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪৫-৫০ জনকে আসামি করে পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছে বন বিভাগ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন পীরগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশগাড়া মৌজার প্রায় ৮৪ একর সংরক্ষিত বনভূমিতে সম্প্রতি সরকারি অর্থায়নে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। গত ১৪ জুলাই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ওই বনভূমিতে পুনরায় বনায়নের উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ।
এর পাঁচ দিনের মাথায় গত রোববার (১৯ জুলাই) সকালে নিয়মিত টহলে গিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা দেখতে পান, একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে বনভূমিতে প্রবেশ করে চারা গাছ উপড়ে ফেলছে এবং জমি পুনর্দখলের চেষ্টা করছে। এ সময় বন বিভাগের কর্মকর্তারা বাধা দিলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি পীরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
বন বিভাগের দাবি, অভিযুক্তদের তাণ্ডবে বিভিন্ন প্রজাতির ১৪ হাজার ৪২০টি চারা গাছ, খুঁটি, সার এবং শ্রমিক ব্যয়সহ প্রায় ২৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি সংরক্ষিত বনভূমির পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ বন বিভাগের কর্মকর্তা মহসিন আলী বলেন, গত ১৪ জুলাই বাঁশগাড়া মৌজার ৮৪ একর সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করে সেখানে চারা রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু রোববার সকালে গিয়ে দেখা যায়- প্রায় ১৪ একর এলাকার চারা গাছ উপড়ে ও কেটে আবারও জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সরকারি বনভূমি রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামাণিক বলেন, বন বিভাগের দায়ের করা মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রেদওয়ান মিলন/আরএআর
