বিজ্ঞাপন

আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২০০ প্রতিবন্ধী পরিবার পেল ত্রাণ

আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ২০০ প্রতিবন্ধী পরিবার পেল ত্রাণ

একটি লিখিত আবেদন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বন্যাদুর্গত ২০০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সোমবার (২০ জুলাই) নগরের লালখানবাজারের শহীদ নগর সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসব পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জানা গেছে, রোববার ডিজএ্যাবল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের (ডিডিআরসি) নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু ও যুবক সাধারণ ত্রাণকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে সহায়তা সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাদের জন্য আলাদা করে জরুরি খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। আবেদন পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং নিজেও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। তাই তাদের বিষয়ে আবেদন পাওয়ার পর দেরি না করে দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের সব ধরনের সেবায় তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়েছেন। ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো উৎসাহ ও স্বস্তি পেয়েছে।

বিতরণ করা প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি চিনি, ফ্যামিলি সাইজের বিস্কুট, ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, লাইটার, ওরস্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ডিডিআরসি ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উদ্ধার, আশ্রয়, চিকিৎসা, খাদ্যসহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য পৃথক সহায়তার এ উদ্যোগকে মানবিক প্রশাসনের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমআর/এসএইচএ