বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ খেলা দেখতে নিষেধ করায় স্ত্রীকে বেধড়ক পিটুনি, স্বামী আটক

বিশ্বকাপ খেলা দেখতে নিষেধ করায় স্ত্রীকে বেধড়ক পিটুনি, স্বামী আটক

‘ওহ বাবা, বাবা, তুই আমার বাবা। আমারে তুমি আইনছো কেন? ওহ মারে। ওহ আল্লাহরে।’ পাষণ্ড স্বামী জহিরুল ইসলামের পিটুনিতে এভাবেই চিৎকার করে কান্না করছিল গৃহবধূ মরিয়ম বেগম। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে নিষেধ করায় মর্মান্তিকভাবে স্ত্রীকে পিটিয়েছে নির্দয় স্বামী। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রায় ২ মিনিটের ভিডিওটি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৯ জুলাই) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া ওয়াপদা টেক এলাকায়। বিশ্বকাপ খেলা দেখতে বারণ করায় এলোপাথাড়ি পিটিয়ে জহির তার স্ত্রীর হাত-পায়ে জখম করেছেন। 

এদিকে ঘটনাটির ভিডিও সোমবার (২০ জুলাই) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা পাষন্ড যুবকের শাস্তি দাবি করেছেন। কিন্তু এ ঘটনায় সোমবার রাত পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে ভিডিওটি নজরে আসায় রামগঞ্জ থানা পুলিশ জহিরুলকে আটক করেছে।

জহিরুল ব্রম্মপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, মরিয়মের আর্তনাদ শুনে কেউ একজন মোবাইলের ক্যামেরায় ভিডিও চালু করে  তাদের ঘরে যান। ঘরে ঢুকতেই দেখা যায় মরিয়ম আর্তনাদ করছেন। আর বলছেন, ‘ওহ বাবা, বাবা, তুই আমার বাবা। আমারে তুমি আইনছো কেন? ওহ মারে। ওহ আল্লাহরে।’ আর তার স্বামী নির্দয়ভাবে বলছেন, তুই আমারে ঢাকা থেকে আনলি কেন। প্রতিত্তরে মরিয়মও বলেছেন, ‘আমারে তুমি আইনছো কেন’। সেই মুহূর্তে জহিরুল বলে উঠে ‘তুই আঁরে মোহরানা শিখাছ’। আর মরিয়ম যন্ত্রণায় চিৎকার করে কান্না করছিল। 

এসময় ফুলে উঠা তার হাতে প্রতিটি আঘাতের চিহ্ন ছুঁয়ে ছুঁয়ে কান্না করছিল মরিয়ম। একপর্যায়ে জহিরুল বলছিলেন, খেলাধুলা মানুষের জীবনে নাই, আইজ লাস্ট খেলা আই চাইতে যাইয়াম, তুই আঁরে যাই কইছত, আঁর যেতে শত্রু তুই হেতের লগে কথা কস, তোরে ডাক দিই’। কিন্তু বেদম পিটুনির আঘাতে চিৎকার ও কান্না থামেনি অভাগা মরিয়মের। 

এসময় যিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন তিনি জহিরুলকে বলে উঠলেন ‘এইডা কি, সবতো কালা করি হালাইছোস, ইরে। তুই আইছোস কি কাজে? তুই ইজ্ঞারে এরুম কইচ্ছোস কিল্লাই।’ 

স্থানীয় সূত্র জানায়, মরিয়মের বাড়ি চট্টগ্রামে। প্রায় দুই বছর আগে জহিরুল তাকে বিয়ে করে রামগঞ্জের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া ওয়াপদা টেক এলাকায় ঘর করে তারা সংসার শুরু করেন। তাদের সংসারে ৫ মাস বয়সী একটি সন্তানও রয়েছে। প্রায়ই তিনি মরিয়মকে কারণে অকারণে নির্যাতন করতেন। জহিরুল ‘মাদকসেবী’। মাদক সেবন করেই সে তার স্ত্রীকে বেদম পিটিয়েছেন। হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- তার হাত-পায়ে ভাঙা জখম হয়েছে। পরে তিনি পালিয়ে যান। 

মরিয়মের দাবি, ঘরে ৫ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে মরিয়ম একা। তাই জহিরুলকে খেলা দেখতে যেতে তিনি নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে তাকে আহত করেন। 

পারভেজ হোসেন ও হাসানুর জামান নামে স্থানীয় দুইজন বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি মর্মান্তিক। ভিডিওটি দেখে বুকটা আঁতকে উঠেছে। পাষণ্ড যুবকের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। 

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে ভিডিটি নজরে আসার পর ঘটনায় অভিযুক্ত জহিরুলকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসান মাহমুদ শাকিল/এসএইচএ 

বিজ্ঞাপন