ফরিদপুরে মো. নাঈম শেখ (১৫) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ মাটি চাপা দিয়ে তার ইজিবাইক ছিনতাই করার অপরাধে দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ মামলার অপর এক ধারায় তাদের তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই ব্যক্তি দুটি ধারার দেওয়া এ রায়ের সাজা একসঙ্গে ভোগ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহত ইজিবাইক চালক মো. নাঈম শেখ ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের গোয়ালের টিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. সামসু শেখের ছেলে।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমানখার ডাঙ্গী গ্রামের আছমত শেখ (২৩) ও সাগর মোল্লা (৩২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নাঈম শেখ ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে তার ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যায়ও বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তার মুঠোফোনে কল দেন। সেটি বন্ধ পাওয়া গেলে চারদিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এতে নাঈমের কোনো খোঁজ মেলে না। পরদিন ২২ এপ্রিল ভোর ৬টার দিকে লোকমানখার ডাঙ্গী গ্রাম থেকে চোরাই ইজিবাইকসহ দুই চোরকে আটক করে পুলিশ। পরে শনাক্ত হয় সেটি নাঈমের ইজিবাইক। ওই দুই চোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নাঈমকে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। এরপর তাদের বাড়ির এক পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল বিকেলে নাঈমের বড় ভাই মো. রাশেদ শেখ বাদী হয়ে আছমত শেখ, সাগর মোল্লা ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ হোসেন। তিনি ২০২২ সালের ২৪ মে আছমত, সাগর ও ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ্ মো. আজিজুর রহমান বলেন, আদালত ৩০২ ধারা(খুনের শাস্তি) তৎসহ পঠিতব্য ৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন ও ৩৯৪ ধারায় (দস্যুতা করার সময় কোনো ব্যক্তিকে আঘাত বা জখম করলে) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে দুই সাজা একত্রে চলায় বড় সাজা যাবজ্জীবন ভোগ করলেই হবে।
তিনি বলেন, তবে এ মামলার অপর আসামি যে ১৬ বছর বয়সী কিশোর। তার বিচারটি শিশু আদালতে বিচারাধীন। পিপি বলেন,আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। আমরা ন্যায্য বিচার পেয়েছি।
জহির হোসেন/এএমকে
