আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে আপস না করতে পুলিশ সদস্যসহ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভার অনুষ্ঠিত হয়।
আরপিএমপি কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে আপস নয়। মাদকের বিরুদ্ধে আরপিএমপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধসহ সব অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন আবদুল মাবুদ।
তিনি মামলার দ্রুত তদন্ত, ওয়ারেন্ট তামিল বৃদ্ধি এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, মহানগরে সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিরসন, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, ফিটনেসবিহীন ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নগরী গড়ে তুলতে ট্রাফিক বিভাগের সব সদস্যকে নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় জানানো হয়, গত জুন মাসে দায়ের হওয়া ১৫৬টি মামলায় ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ৬০টি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৪৮ জন। এ ছাড়া নন-এফআইআর মামলা অর্থাৎ আমলযোগ্য নয়, এমন ১১০টি মামলায় ১৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জুন মাসে পরিচালিত মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে নেশাজাতীয় এক দশমিক ১১৪ কেজি গাঁজা, ৯৮৭ পিস ইয়াবা, ২২ গ্রাম হেরোইন, ৩৩ পিস ট্যাপেন্ডল, ও ১৬ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়েছে। এসবের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৩১ হাজার ১৪০ টাকা। এ ছাড়া দুটি অটোরিকশা, দুটি মোটরসাইকেল ও চুরি হওয়া ইলেকট্রিক তার উদ্ধার করেছে আরপিএমপি।
এর আগে, সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন আরপিএমপি কমিশনার আবদুল মাবুদ।
তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবহারে সংযম ও সতর্কতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অনলাইন জুয়া, অনৈতিক ডিজিটাল কার্যক্রম এবং দায়িত্ব পালনের সময় অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
একজন পুলিশ সদস্যের সুস্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা পেশাগত দক্ষতার অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে আবদুল মাবুদ বলেন, প্রত্যেক সদস্যকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, নিয়মিত পিটি-প্যারেড এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাদক-সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত যে কারও বিরুদ্ধে আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা, ধৈর্য ও জনবান্ধব আচরণ বজায় রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি সব সদস্যকে ড্রেস রুল যথাযথভাবে অনুসরণ করে সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরপিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ, উপপুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) হাবিবুর রহমান, উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মাহফুজুর রহমান, উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবদুর রহমান, উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ, উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন জোনের এসি, ওসি উপস্থিত ছিলেন।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমক
