বিজ্ঞাপন

অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তার সেই হরিদাস কারাগারে

অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তার সেই হরিদাস কারাগারে

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এবং সম্প্রতি গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা বিতর্কিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চেক প্রতারণার মামলায় ময়মনসিংহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের (অর্থ ও ঋণ) বিচারক শুনানি শেষে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপীনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে। তার জন্ম ১৯৯১ সালে।

ময়মনসিংহ যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের (অর্থ ও ঋণ) পিপি মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০১২ সালে হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় একটি সিআর মামলা (নম্বর: ১৪৯১/২০১২) দায়ের হয়। ২০২৩ সালে মামলাটির বিচারকাজ (নম্বর: ৩২১৮/২০২৩) শেষ করে আদালত হরিদাসকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। কিন্তু রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অন্য একটি অর্থ পাচার মামলায় ঢাকার সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি জানতে পেরে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে তাকে ময়মনসিংহ আদালতে হাজির করার আবেদন জানায় ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ তাকে ময়মনসিংহের আদালতে তোলা হলে বিচারক শ্যোন অ্যারেস্ট মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হরিদাসের তিন ভাই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই তিনি ভারতে পাড়ি জমান এবং সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১০ সালে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় পুরোনো এসি মেকানিকের কাজ শুরু করেন।

গোয়েন্দা সংস্থার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম ধারণ করে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার এক তরুণীকে বিয়ে করেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সূত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এমনকি শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের ছবি যুক্ত করে প্রতারণার জাল বিছিয়েছিলেন তিনি। চাকরি, বদলি ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৮ সালেও তাকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব।

সর্বশেষ গত ১২ জুলাই রাতে হুন্ডি ও অর্থ পাচার মামলায় সিআইডি তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। সিআইডি সূত্রে জানা যায়, হরিদাসের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চার দিনের রিমান্ড শেষে গত ১৬ জুলাই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুন মাসে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দেশের সর্বোচ্চ ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে পুনরায় আলোচনায় আসেন হরিদাস। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে জুনের শেষভাগে স্থানীয় ‘শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির’ কমিটি মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত করে দেয়।

সাখাওয়াত সুমন/এএমকে