অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিঞাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালীতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
ডা. সেলিম মিঞা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন পদ থেকে বদলি হয়ে শেরপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন। পরে তিনি ১০ জুলাই ২০২৪ তারিখে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, সাংবাদিক লাঞ্ছনা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে মানববন্ধনসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।
ওএসডি হওয়া প্রসঙ্গে ডা. সেলিম মিঞা বলেন, আমি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না। তবে গত কিছুদিন ধরে নিজে থেকেই বদলির চেষ্টা করছিলাম। শেরপুরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাজ করতে গিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।
শেরপুর সদর হাসপাতালের নতুন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেনকে। তিনি এর আগে খুলনার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলায় এবং তিনি আগামী রোববার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
ওএসডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা। তিনি বলেন, ডা. সেলিম মিঞাকে ওএসডি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষই ভালোভাবে বলতে পারবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মো. নাইমুর রহমান তালুকদার/এএমকে
