সম্প্রতি লালমনিরহাটে অতি বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে যেমন কমেছে সব ধরনের সবজির উৎপাদন, তেমনি বেড়েছে দাম।
জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলেই সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। এসব এলাকায় বৃষ্টি ও প্লাবনের কারণে সবজির খেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। যার কারণে সবজি উৎপাদন অনেকটাই কমে গেছে এবং কিছু কিছু সবজির খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির আমদানি হ্রাস পেয়েছে। এতে পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত সব যায়গাতেই বৃদ্ধি পেয়েছে সবজির দাম।
বুধবার (২২ জুলাই) লালমনিরহাটের বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রায় সব বাজারের একই চিত্র।
সবজির আমদানি কম থাকা এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাদের কপালে দেখা গেছে চিন্তার ভাজ, অনেক ক্রেতা সবজি কিনছেন আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি সপ্তাহে লাগাতার বৃষ্টির কারণে কৃষক খেত থেকে চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারেননি। খেতে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে লালমনিরহাটের সবজির উৎপাদন তুলনামূলক কমে গেছে।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কিছু কিছু সবজি গাছের বয়স বেড়ে যাওয়ায় অতিবৃষ্টির কারণে দ্রুত সবজির খেত নষ্ট হয়ে গেছে, কৃষরা আবার নতুন করে সবজি উৎপাদনের জন্য বীজ রোপণ করবেন।
লালমনিরহাটের তুষভান্ডার সবজির বাজারে দেখা গেছে সপ্তাহখানেক আগে যে ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। আজকে এই সবজিগুলো কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বিক্রেতারা প্রতি কেজির দাম হাঁকছেন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পাঁচ-ছয় দিন আগেও যে সবজি কেনা গেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একইভাবে বেগুন ও বরবটি গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বুধবার কেজিতে বেড়ে হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। শসা, টমেটো প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। গেল সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় শসা বিক্রি হয়েছে।
তুষভান্ডারে বাজারের আড়ত থেকে সবজি নিয়ে এলাকায় ভ্যানে বিক্রি করেন সফিকুল মিয়া। তিনি বলেন, তিন-চার দিন আগের চেয়ে পাল্লায় (পাঁচ কেজি) অন্তত ৫০-৭০ টাকা বেড়েছে সবজির দাম। এ জন্য তাকেও খুচরায় আরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে চাষিদের সবজি নষ্ট হয়ে গেছে, অনেকের সবজির খেতও নষ্ট হয়ে গেছে,অনেকের খেতে পানি জমে আছে। এসব কারণে সবজির সরবরাহ কম, ফলে দাম বেড়েছে দ্বিগুণ।
কালীগঞ্জ সবজি বাজারে সবজি ক্রেতা রহিম উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতিটি সবজিতে ১০-২০ টাকা করে দাম বেড়েছে মূলত অতিবৃষ্টি ও হালকা প্লাবনের কারণে সবজির জমিতে পানি জমে উৎপাদন কমে গিয়ে সবজির আমদানি কমে গেছে ফলে আমাদের চরা দামে সবজি কিনতে হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন বলেন, সবজিতে আমাদের ক্ষতির তেমন রেকর্ড নেই, তবে নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু বীজতলা নষ্ট হয়েছে। যেসব সবজির মেয়াদ শেষের দিকে ছিল সেগুলো অতিবৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়েছে। অনেকেই সেই সব জমিতে আমন ধান রোপণ করবেন অনেকেই আবার নতুন করে সবজি উৎপাদনের জন্য বীজ বপন করবেন।
এএমকে
