পটুয়াখালীর বাউফলে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা দায়েরের অভিযোগে আকলিমা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে তাকে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে দুমকি উপজেলার বাসিন্দা স্বামী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে আকলিমা বেগমের পারিবারিক বিরোধের জেরে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা হয়। পরবর্তীতে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি হয় এবং তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর আকলিমা তার সন্তানকে নিয়ে বাউফল পৌর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, সম্প্রতি সন্তান অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে আলমগীর হোসেন বাউফলে এসে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় আকলিমার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে জোরপূর্বক তাদের পুনরায় বিয়ে পড়ান। পরে ওই বিয়ের কাবিননামা মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে আকলিমা আবারও আলমগীরের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন।
তবে মামলার শুনানি শেষে আদালত উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালতকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করার অভিযোগে আলমগীর হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আকলিমা বেগমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই পুলিশ আকলিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আকলিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নথি ও আদেশের ভিত্তিতেই এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/আরএআর
