বিজ্ঞাপন

চোখের পলকে তিস্তার গর্ভে বিলীন মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ

চোখের পলকে তিস্তার গর্ভে বিলীন মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ

পানি বাড়ার সাথে সাথে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ।

স্থানীয়রা জানান, আর কত ক্ষতি হলে মিলবে স্থায়ী সমাধান। গত কয়েকদিন ধরেই বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে নদীভাঙন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশেষ করে মন্ডলপাড়া এলাকায় ভাঙনের গতি ছিল অত্যন্ত তীব্র। ভিটেমাটি ও মসজিদ রক্ষায় কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগই পাননি তারা।

মঙ্গলবার (২১জুলাই) বিকেলে স্থানীয়দের চোখের সামনেই ঘটে যাওয়া এ দৃশ্য যেন এক দুঃস্বপ্ন। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার তীরঘেঁষে ঝুঁকিতে থাকা মসজিদটি শেষ পর্যন্ত নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কাছে হার মানে। অল্প সময়ের ব্যবধানে পুরো মসজিদ ভবনটি ভেঙে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায়।

মসজিদটি নদীতে বিলীন হওয়ার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্কের ছায়া। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে অসহায়ত্বের করুণ সুর।

স্থানীয় রাসেল মিয়া বলেন, আমরা সবাই এই মসজিদে নামাজ পরতাম। মসজিদটি চোখের পলকেই ভেঙে গেল। এখন আমরা নামাজ পরবো কোথায়। যেভাবে ভাঙছে, তাতে প্রায় ২ থেকে ৩শ বাড়ি বিলীন হয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন,আমাদের একটাই চাওয়া ছিল, ঘরবাড়ি না থাকলেও অন্তত আল্লাহর ঘরটা যেন টিকে থাকে। কিন্তু তিস্তা সেটাও কেড়ে নিল।

আব্দুল বারী সরকার বলেন, প্রতি বছরই তিস্তা নদীর ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মানচিত্র। ভিটেমাটি, আবাদি জমি, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। অথচ দীর্ঘদিন ধরেও স্থায়ী কোনো ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তা না হলে চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ

বিজ্ঞাপন