ফ্যামিলি কার্ড বণ্টনে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষক কার্ড বিতরণে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। কৃষক কার্ড তৈরিতে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা দুর্নীতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেবল বদলি নয়, সরাসরি বরখাস্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বুধবার রাতে (২২ জুলাই) নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের লেংগুরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ উদ্বোধন ও চারা বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মঞ্চে উপস্থিত কৃষি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের উদাহরণটি দিচ্ছি এই কারণে, যেন কৃষক কার্ড নিয়ে এমন কোনো অনিয়ম না হয়। যদি কৃষক কার্ড তৈরিতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি হয়, তবে আমি শুধু বদলিতে ক্ষান্ত হব না, সরাসরি বরখাস্তের ব্যবস্থা করব।’
বক্তব্যের শুরুতেই লেংগুরা ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও বণ্টনে নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘ধান হচ্ছে কৃষকের প্রাণ, দেশের প্রাণ। কৃষকদের মূল্যায়ন করার জন্যই আমরা কৃষক কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু এর আগে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এই লেংগুরা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা ঘরে ঘরে না গিয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন।’
তথ্য সংগ্রহকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের মালিকরা ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন, অথচ যার ঘর ভেঙে গেছে কিংবা যিনি অন্ধ-প্রতিবন্ধী, তিনি কার্ড পাননি। অনেকেই বিস্কুট-চা খেয়ে প্রভাবশালী ও স্বাবলীদের নাম তালিকায় তুলেছেন। যারা এসব করেছেন, আল্লাহর ওয়াস্তে তওবা করেন। প্রধানমন্ত্রী একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তা ও তথ্য সংগ্রহকারীর কারণে এটি মুখ থুবড়ে পড়েছে।’
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আমি নির্বাচনের সময় ওয়াদা করেছিলাম, নিজে দুর্নীতি করব না, আর কাউকে করতেও দিব না। তারেক রহমানের সরকার জনগণের সরকার। আমি থাকা অবস্থায় এক টাকার হেরফেরও হতে দেব না।’
কৃষি খাতের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা খাদ্যে কেবল স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেই ক্ষান্ত হতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামীতে ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, চায়না, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়ায় ধান রপ্তানি করার পরিকল্পনা করছে। গার্মেন্টস শিল্পের মতো ধান পাঠিয়েও আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব।’
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠান যখন ব্যাকফুটে, তখন ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দিন দিন অনন্য উচ্চতায় যাচ্ছে। হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যা ও অতিবৃষ্টির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে আগাম জাতের যে ধান উদ্ভাবনের কথা বলা হয়েছিল, আমাদের বিজ্ঞানীরা তা সফলভাবে উদ্ভাবন করেছেন। এতে করে বৃষ্টি শুরুর আগেই কৃষক তার সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।’
লেংগুরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এই সুধী সমাবেশ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ‘এলএসটিডি’ প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।
চয়ন দেবনাথ মুন্না/এসএইচএ
