মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দুই প্রবাসী ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধের জেরে ইতালিতে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া ছোট ভাই নয়নের মরদেহ প্রিায় তিনমাস পর আজ দেশে পৌঁছেছে। নিহতের মরদেহ বুধবার (২২ জুলাই ) বিকেল ৩টার দিকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা নতুন বাজার এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে দুপুর ১টার দিকে নিহতের মরদেহ নিজ এলাকায় আনা হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতরণ হয়। শত শত নারী পুরুষের ভিড় জমে যায়। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহতের মরদেহ পৌঁছায়।
এদিকে ঘাতক বড় ভাই ছোট ভাইকে খুনের ঘটনায় রয়েছেন ইতালির কারাগারে। বৃদ্ধ বাবা-মা বাড়িতে থাকলেও এক ভাইয়ের মৃত্যু আর অপর ভাই কারাগারে থাকায় তাদের দেখার মতো তেমন কেউ নেই।
নিহতের ফুফাতো ভাই সাব্বির হোসেন বলেন, আমার ভাই নয়নকে বিকেল ৩টার দিকে আমরা দাফন করেছি। তার জানাজায় কয়েকশত লোক অংশগ্রহণ করে। অন্য ঘাতক হুমায়ূন ইতালির কারাগারে রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ভাইকে খুনের ঘটনায় এখনো অনুতপ্ত নয় হুমায়ূন। সে আজ ফোন করে নিহতের মরদেহ যদিও দেখতে চেয়েছিল, কিন্তু খুনের ঘটনায় অনুতপ্ত না হওয়ায় তাকে মরদেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। ইতালিতে তার বিচারিক কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, হুমায়ুন-এর দুই স্ত্রী ও তাদের পরিবারের কোনো লোকজন জানাজায় অংশগ্রহণ করেনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে হুমায়ূন দ্বিতীয় বিয়ে করায় দ্বিতীয় বৌকে মেনে না নেওয়ায় এবং হুমায়ূনের চেয়ে অনেক বেশি টাকা ছোট ভাই নয়ন আয় করা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বে বড় ভাই হুমায়ূনের ছুরির আঘাতে খুন হয় ছোট ভাই নয়ন। তারা টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের বাসিন্দা। হুমায়ুন দীর্ঘ ১৩ বছর ইতালি প্রবাসী। নিহত নয়ন ৪ বছর ইতালি প্রবাসী থাকার পরে খুন হন।
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর হুমায়ুন শেখ ভিডিও কলে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এসময় তিনি নিহত নয়নের রক্তাক্ত মরদেহ দেখান এবং নিজেই তাকে হত্যা করেছেন বলে জানান। স্ক্রিনে এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এলাকায় খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ইতালির স্থানীয় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন শেখকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে বড় ভাই হুমায়ুন ইতালির কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
ব.ম শামীম/এসএইচএ
