বিজ্ঞাপন

চার বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

চার বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কানাপাড়া ঠেকরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা একটি ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভবনে এখনো চলছে পাঠদান। ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল, বিভিন্নস্থানে রড বেরিয়ে এসেছে এবং ছাউনির টিনে অসংখ্য ছিদ্র হওয়ায় বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সব সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনটির বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ফেটে গেছে। স্যাঁতসেঁতে দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, কয়েকটি স্থানে রড দৃশ্যমান। ছাউনির জীর্ণ টিন দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে শ্রেণিকক্ষ ভিজে যায়। ভবনের চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবনটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯১৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৮৪ সালে টিনশেড ভবনটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২৬১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ব্যবহার করতেই হচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন জাহান বলে, আমরা খুব আতঙ্কে থাকি। আমাদের শ্রেণিকক্ষের অনেক জায়গায় রড বের হয়ে গেছে।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহির রাইয়ান বলে, বৃষ্টি হলে ক্লাসরুমের ভেতরেই পানি পড়ে। তখন ঠিকমতো ক্লাস করা যায় না।

আরেক শিক্ষার্থী তাসকিন আহমেদ লাবীব বলে, আমাদের ক্লাসের অনেক জায়গায় দেয়াল ফেটে গেছে। কখন ভেঙে আমাদের ওপর পড়ে যায়, সেই ভয় নিয়ে ক্লাস করি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভবনে পাঠদান করাতে হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দত্ত বলেন, বিদ্যালয়ে দুটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে দুই কক্ষবিশিষ্ট পাকা ভবনের একটি কক্ষ অফিস, অন্যটি ডিজিটাল ক্লাসরুম ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির জন্য ব্যবহার করা হয়। ফলে বাকি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিত্যক্ত টিনশেড ভবনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা শিক্ষা কমিটির ২০২২ সালের ২১ মার্চের সভায় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে একই বছরের ১৬ মে উপজেলা প্রকৌশলী ভবনটি নিলামের জন্য প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করেন। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। নতুন ভবনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোমিনুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত টিনশেড ভবনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন না থাকায় আপাতত বাধ্য হয়ে ওই ভবনেই পাঠদান চলছে।

নুর হাসান/আরকে