কুড়িগ্রাম জেলার ২৫টি বিদ্যালয়ে পরিচালিত পাঁচ বছর মেয়াদী অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্পের (সিবিএম প্রজেক্ট) অভিজ্ঞতা ও সাফল্য নিয়ে ঢাকায় একটি জাতীয় শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২ে২ জুলাই) রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের (এমএবিএফও) আর্থিক সহযোগিতায় ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মীর জাহিদা নাজনীন বলেন, সব শিশুর জন্য সমতাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কুড়িগ্রামের এই প্রকল্পের সফল মডেল ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কর্মশালায় বক্তারা জানান, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ৩১ জুলাই শেষ হতে যাচ্ছে। পাঁচ বছরে কুড়িগ্রামের ১৭টি মাধ্যমিক ও ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ও মেয়েদের উপযোগী বিশেষ ওয়াশ (WASH) সুবিধা নির্মাণ, শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ, ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা (এমএইচএম), দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণ এবং বৃক্ষরোপণসহ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত, প্রান্তিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঝরে পড়ার হার কমেছে।
মুক্ত আলোচনা ও উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের নানা চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়। বক্তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদার, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক ড. মীর জাহিদা নাজনীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) পরিচালক মো. ফরহাদ আলম এবং মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর মহসিন সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইএসডিও-র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ উজ জামান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে মাউশির উপ-পরিচালক এস এম শফিউল আলম, কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরীসহ শিক্ষা প্রশাসন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি মিলিয়ে প্রায় ৭০ জন উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মশালার সুপারিশগুলো দেশের শিক্ষানীতি পরিমার্জন এবং সমতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরকে
