বিজ্ঞাপন

আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে রাজবাড়ী পোস্ট অফিসে গ্রাহকদের বিক্ষোভ

আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে রাজবাড়ী পোস্ট অফিসে গ্রাহকদের বিক্ষোভ

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার শিহাব মৃধার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা অর্থ ফেরতের দাবিতে পোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক গ্রাহক রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে এই বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা দ্রুত আমানতের অর্থ ফেরতের দাবি জানান এবং আগামী রোববার মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, মেয়াদি সঞ্চয় হিসাব খোলার জন্য ডাকঘরে গেলে কর্মকর্তারা তাদের লেটার রাইটার শিহাব মৃধার কাছে পাঠাতেন। শিহাব বিভিন্ন সময়ে সাদা স্লিপের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে সঞ্চয়পত্রের বই পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ডাকঘরে গিয়ে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের নামে কোনো সঞ্চয় হিসাবই খোলা হয়নি। ফলে তারা এখন জমাকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। দ্রুত টাকা ফেরত না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

ইতি খাতুন নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, আমি আমার কষ্টার্জিত ২ লাখ টাকা পোস্ট অফিসে জমা রেখেছিলাম। এখন শুনছি সেই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই।

আরেক গ্রাহক অরবিন্দ দাস বলেন, শিহাব আমার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে একটি স্লিপ দিয়েছিলেন এবং সাত দিন পর বই নিতে বলেছিলেন। পরে জানতে পারি তিনি গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। এখন পোস্ট অফিস থেকেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা বিভিন্ন সময়ে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে কুষ্টিয়া সার্কেল ও খুলনা ডিভিশন অফিসের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিগুলো ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. শামীম আহমেদ বলেন, কুষ্টিয়া সার্কেল ও খুলনা ডিভিশন অফিস থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এএমকে