বিজ্ঞাপন

প্রতারকের খপ্পরে ভ্যান হারানো সেই শাহাদৎ পেল নতুন ভ্যান

প্রতারকের খপ্পরে ভ্যান হারানো সেই শাহাদৎ পেল নতুন ভ্যান

নাটোরে যাত্রীবেশী প্রতারকের খপ্পরে পড়ে একমাত্র সম্বল ব্যাটারিচালিত ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া ১৪ বছরের কিশোর শাহাদৎ হোসেন অবশেষে পেল নতুন ভ্যান। তার অসহায়ত্বের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। 

এর মধ্যে বাগাতিপাড়া ও বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাহাদতের পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া নাটোর শহরের সমাজসেবী রেন্টু মৃধা শাহাদতের হাতে একটি নতুন ব্যাটারিচালিত ভ্যান তুলে দেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নাটোর জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শাহাদতের হাতে নতুন ভ্যানটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

নতুন ভ্যান পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহাদৎ বলেন, ভ্যানটি হারানোর পর মনে হয়েছিল আমার সব শেষ। মা আর দুই বোনকে নিয়ে কীভাবে চলব, ঋণের কিস্তি কীভাবে দেব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু এত মানুষ আমার পাশে দাঁড়াবেন, তা কখনো কল্পনাও করিনি। যারা আমার এই দুঃসময়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ।

শাহাদাতের মা জ্যোৎস্না খাতুন বলেন, এনজিও থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেটাকে ভ্যান কিনে দিয়েছিলাম। ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়েই প্রতি মাসে ৯ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। বয়স কম হলেও সংসারের দায়ে ছেলেটাকে এই কঠিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। টাকা-পয়সার অভাবে ছেলেটাকে পড়ালেখা করাতে পারিনি। সবাই যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এভাবে পাশে থাকলে ছেলেটা পড়াশোনা করতে পারবে, আর ভ্যান চালাতে হবে না।

এর আগে, গত ২১ জুলাই নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরে যাত্রীবেশী দুই প্রতারক কৌশলে শাহাদতের ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। পিতৃহীন শাহাদৎ একটি এনজিও থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ভ্যানটি কিনেছিল। সেই ভ্যানের আয় দিয়েই তিনি মা ও দুই বোনের সংসার চালানোর পাশাপাশি মাসে ৯ হাজার টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেন। একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হারিয়ে শাহাদৎ ও তার মা জ্যোৎস্না খাতুন অসহায় হয়ে পড়েন।

শাহাদতের ভ্যান হারানোর খবর প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে দেশ ও দেশের বাইরে থাকা অনেকেই তার ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠান। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ায়।

ঘটনার পর বাগাতিপাড়া ও বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাহাদতের পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। 

পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় নতুন ভ্যান পেয়ে আবারও জীবিকা নির্বাহের নতুন আশা ফিরে পেল কিশোর শাহাদৎ।

আশিকুর রহমান/এএমকে