শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ শনাক্তে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে রাজশাহীতে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার শিশুর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাম্পে হৃদরোগ শনাক্ত হওয়া শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিনে শিশুদের হৃদযন্ত্র পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা-পরামর্শ কার্যক্রম চলতে থাকে। চীনের ইউনান ফুওয়াই হাসপাতাল, চীনা একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সেস, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, গত ১০ দিন ধরে নিবন্ধনের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলার ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশুদের এ ক্যাম্পে আনা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ক্যাম্পের কার্যক্রম শেষ হবে।
একজন শিক্ষক বলেন, বিনামূল্যে এমন চিকিৎসাসেবা পেলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবে। এতে তাদের পড়াশোনায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একজন অভিভাবক বলেন, কোনো সমস্যা ধরা পড়লে এখান থেকেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য বড় সুযোগ।
রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. তানিয়া আক্তার জাহান বলেন, শিশুদের প্রাথমিকভাবে বাছাইয়ের জন্য পৃথক বুথ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ ও চেকলিস্টের মাধ্যমে জন্মগত হৃদরোগের সম্ভাবনা শনাক্ত করা হচ্ছে। জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা বিলম্বে, মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে। সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতায় পরিবারের আর্থিক ক্ষতি বাড়ায়। প্রান্তিক পর্যায়ে এই চিকিৎসা ব্যায় সাপেক্ষ, তাই আগত স্কুল শিক্ষক ও অভিভাবকরা স্বাগত জানালেন, চীন-বাংলাদেশের এই আয়োজনকে।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আতাউল হক বলেন, জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা রোগের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। কারও শুধু পরামর্শ, কারও ওষুধ, কারও ইন্টারভেনশন বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। এ ক্যাম্পে যতটুকু সম্ভব প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান খোকন বলেন, যেসব শিশুর হৃদযন্ত্রের ছিদ্র (হার্টের ফুটো) বন্ধে ডিভাইস লাগানোর প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, চীনের বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ডিভাইস এবং প্রয়োজনে কার্ডিয়াক সার্জারির সহায়তা দিতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের এ যৌথ উদ্যোগ শিশুদের জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
শাহিনুল আশিক/এমএমবি
