বিজ্ঞাপন

‘শেষমেশ ভিটাটাও তিস্তা নদীত চলি গেল, কারো একনা জাগা পাইলে ঘর তুলি থাকনু’

‘শেষমেশ ভিটাটাও তিস্তা নদীত চলি গেল, কারো একনা জাগা পাইলে ঘর তুলি থাকনু’

‘মনটা খুবই খারাপ, শেষমেশ বাড়ি-ভিটাটাও তিস্তা নদীত চলি গেল। কারো একনা জাগা পাইলে ঘর তুলি থাকনু হয়। বাপের দেড় একর  জমি ছিল, সব নদী খায় গ্যাছে। বাড়ি-ভিটা আছিল, তাও আজ গেল।’

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ গ্রামে নদীভাঙনের দৃশ্য দেখতে গেলে সর্বস্ব হারানোর বেদনায় এসব কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্ত মাঈদুল ইসলাম (৩৫)। তিস্তার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গত তিন দিনে প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে একটি স্কুলসহ প্রায় দুই শতাধিক বাড়িঘর।

নদীভাঙন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তীব্র নদীভাঙনে বেশিরভাগ জিও ব্যাগ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রাম দুটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদ, বাড়িঘর, হাজার হাজার গাছপালা ও ফসলি জমি।

চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও বাতাসের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই কিছুক্ষণ পরপর ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সেগুলো দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। 

ইতিমধ্যে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁর মাঈদুল ইসলাম (৩৫), ইয়াকুব আলী (৪৫), মখলেছ (৩০), ফকরুল (৪০), শফিকুল (৩০), হাজির উদ্দিন (৫০), নাজির উদ্দিন (৪০), হান্নান (৩৫), রবিউল (৪০), সোনা মিয়া (৪৫), আব্দুল লতিফ (৪০), মমিনুল ইসলামসহ (২৫) প্রায় ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

চর বিদ্যানন্দ গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিনে আমাগো চর বিদ্যানন্দ গ্রামের ২০টি ঘরবাড়ি নদীত চলি গেইছে। আমাগো একটাই মসজিদ ছিল, সবাই মিলি নামাজ পড়তাম, সেই মসজিদ ও আমাগো বাড়ি সবই নদী খায়া নিলো। এহন যামু কই।

তৈয়বখাঁ গ্রামের মমিনুল ইসলাম বলেন, বাড়িঘর ভাইঙা এহন খোলা আকাশের নিচে বউ-ছাওয়াল লইয়া কষ্ট কইরা আছি। আমাগোরে দেহি কেউ দেহে না। যেভাবে নদী ভাঙতাছে, তাতে করি আমাগোও থাকবো না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম জানান, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো ইতিমধ্যে পরিদর্শন করে জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ভাঙন প্রতিরোধে আরও জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হবে।

মমিনুল ইসলাম বাবু/আরএআর

বিজ্ঞাপন