বিজ্ঞাপন

শতবর্ষী সোনাভানুর সঙ্গী এখন অনাহার-অবহেলা

শতবর্ষী সোনাভানুর সঙ্গী এখন অনাহার-অবহেলা

গড় আয়ুর হিসাবকে পেছনে ফেলে জীবনের পথে ১২০টি বছর পার করেছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধা সোনাভানু। দীর্ঘ এই জীবনের শেষ অধ্যায়ে তার সঙ্গী এখন কেবলই অনাদর, অবহেলা আর চরম দারিদ্র্য। স্বামী-সন্তানদের হারিয়ে প্রায় নিঃসঙ্গ এই বৃদ্ধা এখন জীবনের সঙ্গে লড়ে বেঁচে আছেন প্রতিবেশীদের ভরসায়।

উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কেল্লা গ্রামে ভাতিজা আব্দুর রহমানের বাড়ির উঠোনের এক কোণে জরাজীর্ণ এক ছাপড়া ঘরে সোনাভানুর বাস। গ্রামবাসীদের তোলা চাঁদায় তৈরি এই ঘরটিই তার শেষ আশ্রয়স্থল। একসময় অন্যের বাড়িতে চেয়েচিন্তে চললেও বার্ধক্যের ভারে এখন আর চলার শক্তি নেই। ফলে ছোট্ট এই ঘরই হয়ে উঠেছে তার সমগ্র জগৎ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে ন্যুব্জ সোনাভানু ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। ভাঙা ভাঙা কন্ঠে তিনি বলেন, আমার অনেক বয়স হইছে বাবা। এক ছেলে আছিল, মারা গেছে। এক মেয়ে বিয়া হইছে সিংড়ায়, সে খোঁজ নেয় না। আরেক ছেলে আছে সেও খবর রাখে না। মরলেও আমাক দেখার কেউ নাই।

তিনি জানান, বয়স্ক ভাতার সামান্য যেই টাকা পান, তা দিয়ে কোনোমতে চলে তার ওষুধের খরচ। প্রতিবেশীরা খাবার দিলে তার মুখে অন্ন জোটে, নইলে দিন কাটে উপোসে।

ভাতিজা আব্দুর রহমানের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, আমরা চাল, ডাল, তেল, মুড়ি, চিড়া খাবার দিয়ে সাহায্য করি। কেউ রান্না করা খাবারও দিয়ে যায়। পাড়া প্রতিবেশী সবাই সাধ্যমতো সাহায্য করে। সরকারিভাবে যদি তার জন্য একটা ভালো ব্যবস্থা হতো, তাহলে হয়তো শেষ বয়সে একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন।

শুধু রোজিনা বেগম নন, গ্রামের প্রায় সবাই সোনাভানুর বয়স ১২০ বছরের বেশি বলে মনে করেন। প্রতিবেশী ইসরাফিল হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই বৃদ্ধাকে দেখে আসছি। তার বয়সী আর কাউকে আমাদের এলাকায় দেখিনি। আমরা যতটুকু পারি তার দেখাশোনা করি। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে বেঁচে থাকলেও তারাও বৃদ্ধ। কিন্তু উত্তরসূরীদের কেউই তার খোঁজখবর নেন না।

আরেক প্রতিবেশী শিল্পী বেগম বলেন, আমরা ছোট থেকে ওনাকে এমন কষ্ট করতে দেখছি। আগে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে খেতেন। ৪-৫ বছর ধরে আর চলতে পারে না। কেউ খাবার দিলে খান, না দিলে না খেয়ে থাকেন। বর্ষার সময় এমনও হয় ২-৩ দিন না খেয়ে থাকেন। অসুস্থ হলে কেউ চিকিৎসা না করা পর্যন্ত বাড়িতেই পড়ে থাকেন।

গ্রামবাসীর এই ভালোবাসাই সোনাভানুর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার কষ্ট আরও বেড়ে যায়। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা পথ্য কোনোটাই জোটে না। নীরবে কষ্ট সহ্য করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না তার।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ১২০ বছর বয়সী বৃদ্ধা যেহেতু বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে, তাকে আরেকটি ভাতার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব না। তবে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সাধ্যমতো তার পাশে থাকার চেষ্টা করব। তাকে আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে।

আশিকুর রহমান/এএমকে