সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল) সামসুল। তখনও তিনি জানতেন না, নিহত শিশু তার নিজের ছেলে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যান তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েন নিজের সন্তানের নিথর মরদেহ দেখে।
এসময় তার সহকর্মী ও স্থানীয়রা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলের সেই দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জ সদরের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে এ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে।
নিহত তুহিন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল) মোহাম্মদ সামসুল মিয়ার ছেলে। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলা সদরে। সে গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাইটাল এলাকার বাসা থেকে তুহিন সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে যায়। এ সময় একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, সামসুল আমাদের থানার একজন দায়িত্বশীল সদস্য। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে সে ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারে নিহত শিশুটি তার নিজের ছেলে। ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়/এসএইচএ
