বিজ্ঞাপন

কপোতাক্ষে ভেসে গেল সাঁকো, দুর্ভোগে ৫০ গ্রামের মানুষ

কপোতাক্ষে ভেসে গেল সাঁকো, দুর্ভোগে ৫০ গ্রামের মানুষ

যশোরের কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদের ওপর দু’পাড়ের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা কাঠের সাঁকোটি বৃষ্টির পানির স্রোতে ভেসে গেছে। তবে ভেসে যাওয়ার ১২ দিনেও সাঁকোটি মেরামত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হচ্ছে দু’পাড়ের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।

ভারি বর্ষণের ফলে নদে সৃষ্ট প্রবল স্রোত ও উপচে পড়া পানিতে গত ১৩ জুলাই রাতে ১৮০ ফুট দীর্ঘ ওই সাঁকোটি ভেসে যায়। যশোরের কেশবপুর ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একমাত্র সংযোগস্থল ছিল এই সাঁকোটি। এ ঘটনায় দুই পাড়ের প্রায় ৫০ গ্রামের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

জানা যায়, ২০১১ সালে সাগরদাঁড়ি বাজারের সাথে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া ও তালা উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্যে সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির উদ্যোগে কপোতাক্ষ নদের দু’পাড়ের মানুষের কাছ থেকে বাঁশ ও অর্থ সংগ্রহ করে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে নদের ওপারের শার্শা, সানতলা, কৃষ্ণনগর, পাঁচপাড়া, সেনেরগাতী, সাারুলিয়া, ধানদিয়া, জয়নগর এবং এ পারের সাগরদাঁড়ি, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর, রেজাকাটিসহ দু’পাড়ের প্রায় ৫০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতো। দীর্ঘদিন ধরে নদের ওপারের মানুষজন ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজার, সওদাসহ সকল কর্মকাণ্ড সাগরদাঁড়ি বাজারে পরিচালনা করে আসছেন।

২০২৪ সালের শেষের দিকে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পরিবর্তে কাঠ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেন। প্রতিদিন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পর্যটকসহ শত শত মানুষের আগমণ ঘটে সাগরদাঁড়িতে। যার অধিকাংশ মানুষই যাতায়াতের জন্যে ওই সাঁকোটি ব্যবহার করে থাকেন।

সাঁকোর মাথার বাসিন্দা সাগরদাঁড়ি গ্রামের আকবর আলী বলেন, ২০২৪ সালের শেষের দিকে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেলে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাঠ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ ছিল। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার কারণে দু’পাড়ের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাগরদাঁড়ি বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। এছাড়া প্রতিদিন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পর্যটকসহ শত শত মানুষের আগমন ঘটে সাগরদাঁড়িতে। এদের অনেকেই কপোতাক্ষ নদে নৌকা ভ্রমণ ও সাঁকো ব্যবহার করতো। জরুরি ভিত্তিতে সাঁকোটি নতুন করে নির্মাণ করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এর জন্য যে পরিমাণ অর্থের দরকার তা আমাদের নেই। সরকারি অর্থ ছাড়া সাঁকোটি নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে সারদাঁড়িতে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।  

সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস বলেন, সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় সাতক্ষীরা জেলার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে প্রতিষ্ঠানে আসছেন।

সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সুভাষ দেবনাথ বলেন, ওপারের গ্রামগুলোর অর্থনৈতিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাগরদাঁড়ি বাজারকেন্দ্রিক। সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী এম এ জাসির বলেন, সাঁকোটি জনগুরুত্বপূর্ণ। তবে এই মুহূর্তে এটি আদৌও মেরামত হবে কিনা সন্দেহ। তবে ১০০ মিটার ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রজেক্টে দেওয়া আছে। কিন্তু অগ্রগতি তো দেখি না। আমরা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকোটি ভেঙে পড়লেও এ মুহূর্তে সংস্কার করা হচ্ছে না। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে নদের দু’পাড়ের মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।  

রেজওয়ান বাপ্পী/আরকে