বিজ্ঞাপন

প্রতীক বরাদ্দের পর কিশোরগঞ্জ পরিবহন সমিতির নির্বাচন স্থগিত

প্রতীক বরাদ্দের পর কিশোরগঞ্জ পরিবহন সমিতির নির্বাচন স্থগিত

বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির  নির্বাচন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে নির্বাচন স্থগিত হলেও দ্রুত পুনঃতফসিল ঘোষণা কিংবা আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠিত হবে।

গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়।  ২৫ জুলাই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অনিয়ম ও অসঙ্গতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদেরও জানানো হয়েছে।

নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আনিছুজ্জামান বাবুল বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে নির্বাচন স্থগিতের একটি চিঠি এসেছে। অভিযোগের কারণেই নির্বাচন স্থগিত করা হলেও এখনো অভিযোগের বিস্তারিত তাদের জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদের ডাকবে। তখন অভিযোগের বিষয়গুলো জানানো হবে। যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে থাকে, তা সংশোধন করে দ্রুত পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হোক। আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।

আনিছুজ্জামান বাবুল বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির আরেকটি বিকল্প ব্যবস্থা হলো আহ্বায়ক কমিটি গঠন। সে ক্ষেত্রে আহ্বায়ক কমিটি তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবে। কেন্দ্রীয় কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা সেটিই মেনে নেব। তবে আমাদের প্রত্যাশা- নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি প্রতিনিধিত্বশীল কমিটি গঠিত হোক। এটিই মালিকদেরও চাওয়া।

ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের জানা মতে ভোটার তালিকায় কোনো ধরনের সমস্যা নেই। বৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহনের মালিকদের সদস্য করে তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশ করেছে।

আনিছুজ্জামান বাবুল বলেন, একটি প্রিন্টিংজনিত ভুল হয়েছিল। সেটি সংশোধন করে বাতিল করা হয়েছে। এরপর আর কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি।

অভিযোগের বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তার ভাষায়, কেন্দ্রীয় কমিটি অভিযোগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে তখনই বলা যাবে অভিযোগ কতটুকু সত্য, কতটুকু অসত্য।

আনিছুজ্জামান বাবুল আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় কমিটি দ্রুত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

উল্লেখ্য, প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনকে ঘিরে পরিবহন মালিকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটির আকস্মিক স্থগিতাদেশে ভোটার ও সাধারণ সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বৈধ ও নির্বাচিত কমিটি গঠনের প্রত্যাশাই এখন কিশোরগঞ্জের পরিবহন মালিকদের প্রধান দাবি।

নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাসুদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদেরকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তবে কেন্দ্রীয় কমিটিই পরবর্তীতে এক চিঠির মাধ্যমে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আমরা কার্যক্রম স্থগিত রেখেছি।

আরএআর

বিজ্ঞাপন