খুলনা বিভাগের জালনোট সংক্রান্ত মামলার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাতক্ষীরা। জেলায় বর্তমানে জালনোট-সংক্রান্ত মোট ৯০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শনিবার (২৫ জুলাই) সোনালী ব্যাংক পিএলসি, সাতক্ষীরা শাখার উদ্যোগে এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সকল তফসিলি ব্যাংকের সহযোগিতায় শাখার নিজস্ব ভবনে জালনোটের প্রচলন প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ তথ্য তুলে ধরেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিন্সিপাল অফিস, সাতক্ষীরার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ইনচার্জ) এ.কে.এম. ফারুক ফয়সল এবং বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা অফিসের যুগ্ম পরিচালক (ব্যাংকিং) মো. মিজানুর রহমান।
সোনালী ব্যাংক পিএলসি, সাতক্ষীরা শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (শাখা প্রধান) এ.এস.এম. আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা অফিসের যুগ্ম পরিচালক (ব্যাংকিং) মো. মিজানুর রহমান।
কর্মশালায় জানানো হয়, সাতক্ষীরা জেলায় জালনোট-সংক্রান্ত মোট ৯০টি মামলার মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আশাশুনি উপজেলায় ১৩টি, কালিগঞ্জে ১২টি, শ্যামনগরে ৯টি, তালায় ৮টি, কলারোয়ায় ৭টি, দেবহাটায় ৫টি এবং পাটকেলঘাটা এলাকায় ৩টি মামলা রয়েছে।
বক্তারা বলেন, জালনোটের বিস্তার রোধে ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। লেনদেনের সময় প্রতিটি নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে। কোনো সন্দেহজনক নোট পাওয়া গেলে তা প্রচলনে না এনে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জালনোট প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।
কর্মশালায় জালনোট শনাক্তকরণের আধুনিক কৌশল, জালনোটের প্রচলন প্রতিরোধে করণীয়, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ইব্রাহিম খলিল/এসএইচএ
